সর্বশেষ সংবাদ
ওপার বাংলার স্বাদ! চিংড়ি দিয়ে লাল শাক রান্নার রেসিপি

ওপার বাংলার স্বাদ! চিংড়ি দিয়ে লাল শাক রান্নার রেসিপি

বাঙালি মাত্রেই খাদ্যরসিক। আর সেই বাঙালির রান্না যদি হয় ওপার বাংলার, তবে তার স্বাদ হয় একেবারেই অন্যরকম, অতুলনীয়। বাংলাদেশের রান্নার প্রতি আমাদের এপার বাংলার মানুষদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। সেই টান, সেই ভালোবাসাকে আরও বাড়াতে এবং ঐতিহ্যের হাতবদল ঘটাতে আমাদের এই বিশেষ নিবেদন: পদ্মাপাড়ের শ্যামার হেঁশেল।

আমাদের এই নিবেদনের প্রথম পর্বে, আমরা হাজির হয়েছি বাংলাদেশের একেবারে ঘরোয়া, সহজ এবং অত্যন্ত সুস্বাদু একটি রেসিপি নিয়ে। যেটি হলো: চিংড়ি মাছ দিয়ে লাল শাক ভাজা/চর্চরি। গরমকালে এই পদটি জিভের আরাম দেয় এবং যা গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে সবাই প্রশংসা করবেই করবে। তাহলে চলুন, দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক পদ্মাপাড়ের শ্যামার হেঁশেলের এই বিশেষ রেসিপিটি।

 

আরও পড়ুন ওপার বাংলার স্বাদ! পাটশাক পুঁটি রান্নার রেসিপি

 

লাল শাক ও চিংড়ি মাছের এই পদটি তৈরি করতে খুব সাধারণ কিছু উপাদান প্রয়োজন হয়:

  • লাল শাক: ১ আঁটি (ভালো করে ধুয়ে কুচি করে কাটা)
  • চিংড়ি মাছ: পরিমাণমতো (ধুয়ে, পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া)
  • কাঁচা লঙ্কা (মরিচ): ৫-৬টি (কিছু আস্ত, কিছু চেরা বা থেঁতো করা)
  • রসুন: ৮-১০ কোয়া (খোসা ছাড়ানো বা কুচি করা)  এই রান্নার স্বাদের অন্যতম চাবিকাঠি
  • হলুদ গুঁড়ো: সামান্য
  • লবণ: স্বাদমতো
  • তেল: রান্নার জন্য (সরষের তেল ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে)
  • কালো জিরে (ঐচ্ছিক): সামান্য (ফোড়নের জন্য)


রান্নার প্রণালী: সহজ এবং সুস্বাদু 

সর্বপ্রথম চিংড়ি মাছগুলি পরিষ্কার করে সামান্য হলুদ ও লবণ দিয়ে মাখিয়ে নিতে হবে। কড়াইয়ে সরষের তেল গরম করে মাছগুলি হালকা সোনালী করে ভেজে তুলে রাখতে হবে। তবে হ্যাঁ, মনে রাখতে হবে, খুব বেশি কড়া করে ভাজার কোনো প্রয়োজন নেই।

এরপর একই তেলে সামান্য কালো জিরে (যদি ব্যবহার করেন) দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কুচি করে রাখা লাল শাক এবং কাঁচা লঙ্কাগুলি তেলে দিয়ে দিতে হবে। পরিমাণমতো লবণ দিয়ে দিতে হবে। শাক নরম হওয়া পর্যন্ত ভালো করে নেড়ে রান্না করে নিতে হবে। শাক থেকে যে জল বেরোবে, তাতেই শাক সেদ্ধ হয়ে যাবে। জল শুকিয়ে এলে এবং শাক পরিমাণে কমে নরম হয়ে গেলে বুঝতে হবে প্রথম পর্বের কাজ শেষ।

এবার খোসা ছাড়ানো বা কুচি করে রাখা রসুনগুলি শাকে দিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের এই ঘরোয়া রান্নাটির অসাধারণ স্বাদ অনেকাংশে রসুনের ওপরেই নির্ভর করে। শাক ও রসুন কিছুক্ষণ নেড়ে মিশিয়ে রান্না করে নিতে হবে, যাতে রসুনের কাঁচা গন্ধ চলে যায়। 

এরপর যখন শাকের সঙ্গে রসুন হালকা ভাজা হয়ে সুগন্ধ বেরোবে, ঠিক তখনই আগে থেকে ভেজে রাখা চিংড়ি মাছগুলি শাকে মিশিয়ে দিতে হবে। সাবধানে মেশাতে হবে যাতে মাছ একেবারে না ভাঙে। দরকার হলে সামান্য জল দিয়ে শাক ও মাছের মশলা ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

মাছ আর শাক ভালোভাবে রান্না হয়ে গেলেই নামিয়ে নিতে হবে। এই পদটি অবশ্যই গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা যাবে। এর সাধারণ স্বাদের গভীরতা নিশ্চিতভাবেই সবার প্রশংসা আদায় করে নেবে।

সাধারণ উপাদানে অসাধারণ স্বাদ, এটাই হলো বাংলাদেশের রান্নার বৈশিষ্ট্য। আশা করি পদ্মাপাড়ের শ্যামার হেঁশেলের এই বিশেষ রেসিপিটি আপনাদের খুব ভালো লাগবে। পরের পর্বে আবারো দেখা হবে অন্য কোনো নতুন রেসিপি নিয়ে।, দেখতে থাকুন হেডলাইন্স কলকাতা।এই পদটি প্রমাণ করে, কম উপকরণেও দারুণ সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়।

                                                                                                                                                                     -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর