আমাদের সমাজে যৌনতাকে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের এক স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত অংশ বলে ধরা হয়। তবে, বাস্তব জীবনের অনেকের কাছেই এই বিষয়টি অস্বাভাবিক হলেও হতে পারে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই কিছু চমকপ্রদ তথ্য।
সম্প্রতি এক বিশাল গবেষণায় দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য কিছু অংশের প্রাপ্তবয়স্করা আছেন, যারা কখনোই যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হন না। কিন্তু বিষয়টি কি শুধুই ব্যক্তিগত পছন্দ, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক, শারীরিক কিংবা কোনো জৈবিক প্রভাব? এবিষয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় খুঁজে পাওয়া গেছে এর পেছনের কিছু অদ্ভুত ও জটিল কারণ। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS) নামক জার্নালে।
যুক্তরাজ্যের প্রায় 4,00,000 এবং অস্ট্রেলিয়ার 13,500 প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে নিয়ে চালানো হয় এই গবেষণা। তাতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় 1% প্রাপ্তবয়স্ক, অর্থাৎ প্রায় 4,000 জন জানিয়েছেন, তারা কখনোই কোনরকম যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হননি। এই 'লাইফলং সেক্সলেস' ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে।
আরও পড়ুন রাহুল বনাম নির্বাচন কমিশন: ভোট চুরির অভিযোগে উত্তপ্ত দিল্লির রাজনীতি
এই প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অনেকেই তুলনামূলকভাবে উচ্চশিক্ষিত, ধূমপান বা মদ্যপান করেন না। তবে মানসিক অবস্থার দিক থেকে তারা একাকীত্ব, দুঃখবোধে ভোগেন এবং বেশীরভাগ সময়ই উদ্বিগ্ন থাকেন।
এবিষয়ে, পুরুষদের ক্ষেত্রে শারীরিক গঠন, বিশেষ করে শারীরিক শক্তি ও মাংসপেশির গঠন, সেক্সহীনতার সঙ্গে বেশি জড়িত। আবার যেসব এলাকায় নারীর সংখ্যা কম বা আয়ের বৈষম্য বেশি, সেসব জায়গায় সেক্সহীনতার হারও বেশি।
নারীদের ক্ষেত্রে যৌনতা থেকে দূরে থাকার পেছনে শারীরিক বা বাহ্যিক কোনো কারণ নেই। অনেকেই জানিয়েছেন, সেক্স্যুয়াল অ্যাট্রাকশন বা যৌন চাহিদার ধাপগুলো সামাজিক বা মানসিকভাবে ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়েছে। তারা হয়তো যৌন সঙ্গমে আগ্রহ কম অনুভব করেন। আবার অনেকেই বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে মনে করেন না।
আবার কিছু নারীর ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা বা অনুভূতিমূলক নিরাপত্তার অভাবও যৌনতা থেকে দূরে থাকা বা যৌন সঙ্গমে অনিচ্ছার একটি কারণ।
এই গবেষণায় আরও জানা যাচ্ছে, জেনেটিক প্রভাবও এর জন্য দায়ী। প্রায় 14-17% যৌনতা-সম্পর্কিত ব্যবধানের পেছনে সাধারণ জিনগত ভ্যারিয়েশন দায়ী।
এই গবেষণা দেখা গেছে, আজীবন যৌনতা থেকে দূরে থাকা শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, এর পেছনে সামাজিক, মানসিক ও জৈবিক নানা কারণই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী। নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি সামাজিক এবং আবেগভিত্তিক।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমান সময়ে সেক্স নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত খোলামেলা ও সহানুভূতিশীলভাবে। যারা যৌনতা এড়িয়ে চলেন, তাদের যেন সমাজ ভুলভাবে বিচার না করা হয়, এবিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা দরকার।
-দিশা দাস