যেখানে রাজনীতি বরাবর এক রকম ছিল, সেখানেই এবার ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেল। একদিকে অকাল হোলির আবিরে রঙিন ঘাসফুল শিবির, অন্যদিকে গেরুয়া রঙে ভাসছে নন্দীগ্রাম। একই জেলায় দুটি ভিন্ন ছবি।কোথাও বিজেপি শূন্য হাতে ফিরছে, আবার কোথাও তারা শক্ত ঘাঁটি গড়ছে।প্রশ্ন উঠছে এই উল্টোচিত্রের আসল কারণ কী?
প্রথমে ভগবানপুরের চিত্র। এখানকার মহম্মদপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস একেবারে ৯-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই জায়গায় বিজেপি একটিও আসন পায়নি। তৃণমূল সমর্থিত ৯ জন প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন, অতুলচন্দ্র পাল, বিশ্বজিৎ মান্না, চয়ন কুমার মণ্ডল, দিলীপ কুমার মান্না, গৌড় হরি ভৌমিক, মদনমোহন পাড়িয়া, ইন্দ্রানী মাইতি, রিনা রানী দাস এবং বিমল মণ্ডল। এই ফলাফলের পর ভগবানপুরে যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়। তৃণমূল কর্মীরা বিজয় মিছিল করেছেন, আবির খেলেছেন, মিষ্টি বিলিয়েছেন। নেতৃত্বের দাবি, এই জয় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের মনোবল বাড়িয়ে দেবে।
আরও পড়ুন যুগান্তকারী আবিষ্কার চীনের, মাত্র ৩ মিনিটে ভাঙা হাড় জোড়া যাবে এবার!
কিন্তু নন্দীগ্রামে ছবিটা একেবারে উল্টো।এখানেই আবার উড়ল গেরুয়া আবির। মনুচক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে বিজেপি ১২টির মধ্যে ৯টি আসন দখল করেছে।তৃণমূলকে তারা ৯-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে। ফল ঘোষণার পর নন্দীগ্রামে উৎসব শুরু হয়।বিজেপি কর্মীরা পতাকা উড়িয়েছেন, আবির মেখেছেন, মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী এই জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন নন্দীগ্রামের মানুষকে। তিনি বলেছেন, “নন্দীগ্রামের জনগণ ভোটের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। ”২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থেকে তার জয় যেমন রাজনীতির বড় ঘটনা ছিল, এই জয়ও সেই ধারারই প্রমাণ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এই পরাজয় তাদের কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করতে না পারায় তারা পিছিয়ে পড়েছে। যেখানে তৃণমূল ভোটারদের মন জিততে ব্যর্থ, সেখানে বিজেপি স্থানীয় আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পূর্ব মেদিনীপুরে এখন দুই রঙের দুই ছবি।ভগবানপুরে ঘাসফুলের আবিরে হোলির উল্লাস, আর নন্দীগ্রামে উড়ছে গেরুয়া রঙ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই উল্টোচিত্রই রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।
-জ্যোতি সরকার