সর্বশেষ সংবাদ
নেপালের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী: মোদি ভক্ত সুশীলা কার্কি!

নেপালের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী: মোদি ভক্ত সুশীলা কার্কি!

শেষমেশ কিনা মোদি ভক্তই হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী! ভারতের সঙ্গেও নাকি তাঁর গভীর সম্পর্ক। নেপালের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন সুশীলা কার্কি। এ যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।

বিগত কয়েকদিন ধরেই এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে নেপালের রাজনৈতিক অবস্থান। একদিকে GenZ বিক্ষোভের রেশ যেমন কাটেনি, তেমনি অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর আচমকা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরই পরিস্থিতি বেগতিক হতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথমবার অভিনব ভাবে GenZ দের সোশ্যাল মিডিয়া ভোটের মাধ্যমে নিযুক্ত হলেন কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহন করেন ৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি। 

জানা যাচ্ছে, শপথ গ্রহনের আগে কার্কি স্পষ্ট জানান, তিনি এই দায়িত্ব তখনই নেবেন, যদি সরকারের দুর্নীতি ও পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ও শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন হয়। বিগত কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা GenZ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২০ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়। এবিষয়ে তিনি বলেন, "যদি আমার হাত-পা বাঁধা থাকে, তাহলে আমি আগ্রহী নই।"

 

আরও পড়ুন দক্ষিণেশ্বর মেট্রোয় রক্তাক্ত সংঘর্ষ! ছুরির কোপে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

 

যদিও ওদেশের বড় তিনটি রাজনৈতিক দল কার্কির এই শর্ত মানতে রাজি হয়নি। তবে GenZ আন্দোলনকারীরা ও কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ এবিষয়ে কার্কিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি, নেপালের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আশোক রাজ সিগদেল দেশের তরুণদের একত্রিত করে নতুন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে সাহায্য করছেন, যার নেতৃত্বে থাকবেন সুশীলা কার্কি। তিনি আরও জানান, কোনো পুরনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কার্কি বলেন, "আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নমস্কার জানাই। ভারতের সঙ্গে নেপালের আত্মার সম্পর্ক। আর এ সম্পর্ক বহু পুরনো। ভারত সব সময় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে রান্নাঘরে একসাথে অনেকগুলি বাসন থাকলে যেমন মাঝে মাঝে শব্দ হয়, তেমনি এই দুই দেশের মধ্যেও মাঝে মাঝে মতবিরোধ ঘটাও স্বাভাবিক।" 

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানান। নিজের X হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, "মাননীয়া সুশীলা কার্কী-কে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। নেপালের মানুষের শান্তি, উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন্য ভারত সবসময় পাশে আছে।"

আরও জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে সুশীলা কার্কির সম্পর্কও বহুদিনের। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। সেবিষয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "আমি ভারতের বারাণসীতে পড়েছি। গঙ্গার তীরে থাকা হোস্টেলের স্মৃতি আজও মনে পড়ে।" 

কার্কির এই নিয়োগ নেপালের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, তার নেতৃত্বে নেপালের রাজনীতি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল হবে। তরুণ প্রজন্মের আশা ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে তিনি নিশ্চয়ই ওদেশের ভবিষ্যত সুগম করবেন। তাঁর নেতৃত্ব শুধু দেশীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনবে না, বরং ভারত-নেপাল ঐতিহাসিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

                                                                                                                                                                                                                                                  - দিশা দাস

পরবর্তী খবর