নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া III-এ অবস্থিত এলিটা গার্ডেন ভিস্তা টাওয়ার-৮ কে বেআইনি ঘোষণা করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর পাশাপাশি এটি সম্পুর্ণ ভেঙে ফেলার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের পর ওই ২১ তলার টাওয়ারের ১৬০টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। প্রায় ১৫০টিরও বেশি পরিবার বর্তমানে এই টাওয়ারে বসবাস করছেন। আদালতের নির্দেশে তাঁদের এক মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট খালি করে দিতে বলা হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ সল্টলেক এর তথ্য অনুযায়ী,আবাসনটির বাসিন্দারা দ্য টেলিগ্রাফ সল্টলেক কে জানান, "আমরা সবাই চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।"
আরও পড়ুন মাঝ আকাশে বিকল ইন্ডিগোর বিমান, কোচিতে জরুরি অবতরণ আবু ধাবিগামী ফ্লাইটের
উল্লেখ্য,এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০১৮ সালে, যখন মূল ১৫টি টাওয়ারের কিছু ফ্ল্যাট মালিক বর্তমান প্রোমোটারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। ২০০৭ সালে মূল ডেভেলপার কেপেল ম্যাগাস একটি আবাসিক কমপ্লেক্স তৈরির জন্য ১৫টি টাওয়ারের পরিকল্পনা করে। এই প্রকল্পের জন্য নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA)-এর অনুমোদনও নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ২০১৪ সালে প্রকল্পটি নতুন প্রোমোটারের হাতে চলে যায়। এরপরই নতুন প্রোমোটার একটি সংশোধিত প্ল্যান পেশ করে এবং একটি খোলা জায়গায় ১৬তম টাওয়ারটি তৈরির অনুমতি চায়। এই সংশোধিত প্ল্যানের কারণে প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য বরাদ্দ সাধারণ স্থান (common area), হাঁটার পথ এবং খোলা জায়গা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
২০১৮ সালে একটি একক বেঞ্চ এই সংশোধিত প্ল্যানটিকে বেআইনি ঘোষণা করে। যদিও তখন নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এরপর আরও দুটি বেঞ্চ একই রায় বহাল রাখে। অবশেষে, সম্প্রতি একটি ডিভিশন বেঞ্চ টাওয়ারটি ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের তাঁদের কেনা দাম এবং বার্ষিক ৭% সুদের সঙ্গে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু এতেও বাসিন্দাদের স্বস্তি নেই। বেশিরভাগ ফ্ল্যাট মালিকই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রথম কয়েক বছর তাঁরা প্রধানত ঋণের সুদই শোধ করেছেন। তাই এখন যদি ডেভেলপার ব্যাংককে মূল টাকা ফেরত দেয়, তাঁদের হাতে সামান্যই টাকা থাকবে।
এবিষয়ে এক বাসিন্দা বলেন, "আমাদের বাড়িটাও গেল, আর যে টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম, তার বেশিরভাগই চলে গেল। এই টাকায় কি কলকাতায় আর কোনো জায়গা কেনা সম্ভব? কোনোভাবেই না! একদম রাস্তায় বসে যাব।" শুধু তাই নয়, পাশের টাওয়ারগুলির বাসিন্দারাও আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, টাওয়ারটি ভাঙার সময় তাঁদের নিজেদের টাওয়ারগুলির কোনো ক্ষতি হবে কিনা, কারণ টাওয়ারগুলি একে অপরের খুব কাছে অবস্থিত। এর আগে নয়ডায় সুপারটেক টুইন টাওয়ার ভেঙে ফেলার ঘটনাও তাঁদের মনে ভয় সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে, এই রায় , এলিটা গার্ডেন ভিস্তা টাওয়ার-৮-এর বাসিন্দাদের জীবন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।
-অঙ্কিতা পাল