কলকাতা রাজনীতিতে হঠাৎ এক নাটকীয় মোড়। শহরের অন্ধকার গলিপথে, গভীর রাতে নেমে আসে পুলিশের হানা। কয়েক মিনিটের টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সেই ব্যক্তি, যাকে এত দিন খুঁজছিল পুলিশ।
আরও পড়ুন মহালয়ার আগেই বৃষ্টি! এবার কি পুজো কাটবে ছাতা হাতে?
অবশেষে গ্রেফতার হলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ। প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই তিনি ছিলেন পলাতক। মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্যাংরা এলাকার এক ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর আগে এই মামলায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন রাকেশের ছেলে শিবম সিংহ। এ ছাড়াও বিজেপির তিন কর্মী বিজয়প্রসাদ ধানুক, সন্তোষকুমার রাজভর এবং দিব্যেন্দু সামন্তকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত রাকেশ সিংহ দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরেই অধরা ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় রাকেশ স্লোগান দেন,“নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ।” সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “রাকেশ সিংহ কাউকে ভয় পান না।”
গত শুক্রবার সকাল সওয়া ১১টা নাগাদ কংগ্রেসের দফতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সেই সময় দফতরে খুব কম নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। ঠিক সেই সুযোগেই তাণ্ডব চালানো হয়। গেটের বাইরে কংগ্রেস নেতাদের ছবিতে আগুন দেওয়া হয়। পোড়ানো হয় পতাকা। এমনকী রাহুল গান্ধীর ছবিতেও কালি মাখানো হয়।
অভিযোগ, এই হিংসাত্মক ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন রাকেশ সিংহ। এফআইআর দায়ের হয় এন্টালি থানায়। অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। বিজেপি নেতা প্রতীক পাণ্ডের নামও উঠে আসে তদন্তে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাহুল গান্ধীর বিহারের সভা থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। অভিযোগ ছিল, সেই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছিল।
সেই ঘটনার পরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এবং তার জেরেই কলকাতায় কংগ্রেস দফতরে ঘটে এই ভাঙচুর।
ঘটনার পর থেকেই রাকেশ লুকিয়ে থাকলেও, সামাজিক মাধ্যমে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ছেলের গ্রেফতারির পর খোলাখুলি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে সরাসরি হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হিসেব উল্টে দিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ধরতে সক্ষম হয় কলকাতা পুলিশ।
বুধবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে রাকেশ সিংহকে।এখন সবার নজর আদালতের সিদ্ধান্তে।
-জ্যোতি সরকার