এত দিন চুপ থেকে হঠাৎ আদালতে হাজিরা। কেন এলো এমন প্রশ্ন? কেনই বা আদালতের দরজা ঠুকলো ঠিক তালিকা বেরোনোর পরেই?
কলকাতা হাই কোর্ট আজ ভর্ৎসনা করল এসএসসির নিয়োগ মামলায় অভিযুক্ত সেই তথাকথিত প্রার্থীদের। ‘দাগি অযোগ্য’ নামেই যাদের চিহ্নিত করেছে কমিশন, সেই তালিকা নিয়েই এবার মামলা করেছিল কিছু প্রার্থী। তাদের দাবি ছিল, এই তালিকা অন্যায়, তাদেরও পরীক্ষা দিতে দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন ‘ট্যারিফ ছাড়া আমেরিকা বাঁচবে না’ ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল একেবারে স্পষ্ট। বিচারপতির প্রশ্ন এত দিন তারা কোথায় ছিলেন? কেন ৩১ ডিসেম্বরের আগে আদালতে আসেননি? যখন সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, তখনই কেন আবেদন করা হয়নি? এখন পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে এসে তারা আদালতে কী চাইছেন? বিচারপতির কড়া মন্তব্য “যথেষ্ট হয়েছে আর নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা প্রকাশের পরে কীভাবে দাবি করা যায়, যে তারা ‘দাগি অযোগ্য’ নন?”
অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবীদের দাবি ছিল, তাদের মক্কেলরা সাদা খাতা জমা দেননি, অন্তত একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাই তাদের ‘অযোগ্য’ বলা উচিত নয়। কিন্তু কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য
সব প্রার্থীর বিরুদ্ধেই রয়েছে ওএমআর শিট কারচুপির প্রমাণ।সিবিআই-এর হাতে যে তালিকা ছিল, সেটি মিলিয়ে দেখেই প্রকাশ করেছে এসএসসি। এই প্রার্থীরা র্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি পেয়েছিলেন। তাই তারা অযোগ্য, এবং পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই।
আদালত জানিয়ে দিল, এই মামলা হস্তক্ষেপ করার মতো উপযুক্ত নয়। সরাসরি খারিজ হয়ে গেল আবেদন। ‘দাগি অযোগ্য’দের নিয়ে আদালতের আর কোনও মাথাব্যথা নেই।
তাহলে,আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বরের নিয়োগ পরীক্ষায় কাদের বসার সুযোগ হবে? আর কাদের নাম চিরতরে মুছে যাবে তালিকা থেকে? উত্তর আপাতত স্পষ্ট ‘দাগি অযোগ্য’দের আর কোনও জায়গা নেই।
-জ্যোতি সরকার