নতুন পরিষেবা চালুর মধ্যেই ফের বড় ধাক্কা কলকাতা মেট্রো যাত্রীদের জন্য। হঠাৎ করেই কর্তৃপক্ষ জানাল এক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি। যার প্রভাব পড়বে দক্ষিণ কলকাতার বহু যাত্রীর উপর। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে চাপে পড়তে চলেছেন নিত্যযাত্রীরা। ঠিক কী ঘোষণা করেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ? কতটা প্রভাব ফেলবে এই বিজ্ঞপ্তি শহরের যাতায়াতে?
শনিবার রাত থেকে রবিবার (৩১ আগস্ট, ২০২৫) বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার একাংশে বন্ধ থাকবে মেট্রো চলাচল। মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ) থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের মধ্যে রবিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনও ট্রেন চলবে না বলে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন কলকাতা কংগ্রেস দফতরে হামলা! হামলা চালালেন বিজেপি কর্মীরা,প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে
সূত্রের খবর, ওই রুটে বসানো হবে একটি আধুনিক টার্ন আউট রিপ্লেসমেন্ট সিস্টেম। মূলত ট্র্যাকের নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের স্বার্থেই এই কাজ অত্যন্ত জরুরি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজ শেষ হলে ওই লাইনে পরিষেবা আরও মসৃণ ও নিরাপদ হবে। তবে আপাতত যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার মুখে পড়তে হবে। এর আগেও গত জুলাই মাসে নোয়াপাড়া–দক্ষিণেশ্বর রুটে প্রযুক্তিগত কারণে পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
সমস্যা আরও জটিল হয়েছে নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে। পিলারে ফাটল ধরা পড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে স্টেশনটি। ফলে প্রান্তিক স্টেশন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ব্রিজি, যা বাড়িয়ে দিয়েছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। প্রতিদিনই যাত্রীদের অভিযোগ—স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড়, হঠাৎ ট্রেন থেমে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার মতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে রবিবারের পরীক্ষার্থীদের জন্য। ওইদিন অনুষ্ঠিত হবে Miscellaneous Services Recruitment Examination। হাজার হাজার প্রার্থীকে পৌঁছতে হবে শহরের নানা প্রান্তে, আর ঠিক সেই দিনই আংশিক বন্ধ হচ্ছে দক্ষিণ কলকাতার লাইনের বড় অংশ। যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত পরিষেবা অব্যাহত থাকবে এবং ওই রুটে বাড়তি ট্রেন চালানো হবে। গ্রিন লাইনে (সেক্টর V–সল্টলেক–সিয়ালদহ–এসপ্ল্যানেড–হাওড়া) পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকবে এবং ওইদিন সকাল ৮টা থেকেই ট্রেন চালু হবে। পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম ও স্টেশন স্টাফ সংখ্যা বাড়িয়ে রাখা হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৮.৫ লক্ষ মানুষ কলকাতা মেট্রোর ওপর নির্ভর করেন, যার বড় অংশই দক্ষিণ কলকাতার যাত্রী। এই পরিস্থিতিতে আংশিক বন্ধ মেট্রো চলাচল ভোগান্তি বাড়াবে, তাতে সন্দেহ নেই।
তবে এখন বড় প্রশ্ন,এই টার্ন আউট বসানো কি সত্যিই যাত্রীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি দেবে, নাকি নতুন পরিষেবা চালুর মাঝেই সমস্যার পাহাড় জমতে থাকবে? উত্তর মিলবে রবিবার সন্ধ্যার পরেই।
-রিয়া হালদার