সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা মহলে বেশ উত্তেজনাময় পরিস্থিতি। বিগত বছরের আর.জি. করের অভয়া হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া আন্দোলনের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এমনই অভিযোগ তুলেছে 'ন্যায়বিচার মঞ্চ'। তাদের দাবি, আন্দোলনের নামে তোলা প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্রাউড ফান্ডিং -এর একটি বড় অংশের কোনো হিসাব নেই।
জানা গেছে, এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে "ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট"। ন্যায়বিচার মঞ্চের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনের নামে প্রায় চার কোটি টাকা ক্রাউড ফান্ডিং করে তুলেছে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। তবে এরমধ্যে কোনোও বৈধ ব্যয়-বিল নেই প্রায় দেড় কোটি টাকার, সেইসঙ্গে বাকি আড়াই কোটি টাকার কোনও হিসেবই পাওয়া যাচ্ছে না।
ড. চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বাধীন এই মঞ্চ ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং আর.জি. কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন বিধানসভা ভোটের আগে বড় পরীক্ষা: ছাত্র সমাবেশে যুবশক্তিকে বার্তা দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব
মঞ্চের তরফে অভিযোগ, আন্দোলনের সময়কালীন সময়ে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যরা সরকারি দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালিয়ে গেছেন। এর ফলে বহু দরিদ্র ও অসহায় রোগী সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এবিষয়ে 'ন্যায়বিচার মঞ্চের' কনভেনর ড. গোস্বামী কি বললেন, "আমরা আন্দোলন চলাকালীন ডক্টরস ফ্রন্টকে আর্থিক স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা সেই অনুরোধে কর্ণপাত করেনি। আন্দোলনের আড়ালে অর্থ উপার্জনই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। এই অসৎ ডাক্তাররাই ভবিষ্যতে কিডনি পাচার, অঙ্গ পাচার, ওষুধ চক্রের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এমনকি, অভয়ার মৃত্যুর পেছনেও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।"
ওনার আরও অভিযোগ, "অভয়ার প্রতিকৃতি যিনি বানিয়েছেন, সেই শিল্পী অসিত সাই সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে কাজটি করলেও, তাঁর নামেও ভুয়ো বিল তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি গুরুতর জালিয়াতি।"
এই বিষয়ে ন্যায়বিচার মঞ্চের আরও এক সদস্য এবং মানবাধিকার কর্মী রাজু ঘোষ জানান, "আমরা ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতিগ্রস্ত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছি। সমাজ ও আইনের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি পাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।"
এরূপ পরিস্থিতিতে, আর.জি. কর হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, শ্যামবাজার, যাদবপুর, রবীন্দ্র সদন, কলেজ স্ট্রিট, প্রেস ক্লাব সহ শহরের অনেক জায়গায় পোস্টার ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তোলা হচ্ছে।
মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ আগস্ট কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেসমিট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জনসমক্ষে পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হবে, তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
ন্যায়বিচার মঞ্চের এই পদক্ষেপ রাজ্যের চিকিৎসা ও সামাজিক পরিসরে নতুন আলোড়নের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের অভিযোগ এবং আন্দোলনকে ঘিরে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মনেই ডাক্তারদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
-দিশা দাস