গৃহবন্দী প্রাক্তণ উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়! কারণ কী শারিরীক অসুস্থতা? নাকি এর পিছনে আছে বড় কোন কারণ?
ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের হঠাৎ পদত্যাগ এবং তার পরবর্তী নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য। শাহের দাবি, ধনখড় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু এই ব্যাখ্যা রহস্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন দেশীয় গাড়ি শিল্পের নয়া অধ্যায়: ভারতে প্রায় হাজার কোটির বিনিয়োগ মারুতি সুজুকির
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জনসমক্ষে না আসায় বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। এ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই একটি সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেন, "ধনখড় সাহেবের পদত্যাগপত্রেই সবটা স্পষ্ট। তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে ইস্তফা দিয়েছেন এবং তাঁর কার্যকালের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।"
তবে ধনখড়কে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, সে প্রসঙ্গে শাহ সরাসরি বলেন, "সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য আপনারা বিরোধীদের কথা শুনে করছেন। অযথা এই নিয়ে হইচই করার কোনো প্রয়োজন নেই। ধনখড় একটি সাংবিধানিক পদে ছিলেন এবং সংবিধান মেনেই তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বলেন, "এই ঘটনায় যা দেখা যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু হতে পারে। কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য যিনি সব সময় কথা বলেন, সেই ধনখড় কেন এক মাসের বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ নীরব, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অমিত শাহের এই বক্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। পদত্যাগের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ধনখড়ের কোনো ছবি বা বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি, যা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে 'স্বাস্থ্যগত সমস্যা'র কথা বলা হচ্ছে, তখন তাঁর জনসমক্ষে অনুপস্থিতি এই রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
-অঙ্কিতা পাল