সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচন কমিশনের দাবি, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়! এর জবাবে কী রায় দিলো সুপ্রিম কোর্ট?

নির্বাচন কমিশনের দাবি, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়! এর জবাবে কী রায় দিলো সুপ্রিম কোর্ট?

SIR আবহে সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ! ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের জন্য স্বস্তির খবর। কী রায় দিলো সর্বোচ্চ আদালত? 

সম্প্রতি বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় ৬৫ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছিল। এমনকি নির্বাচন কমিশন তরফে জানানো হয় নাগরিকত্ব হিসেবে আধার কার্ডও উপযুক্ত প্রমাণ হিসেবে দেখানো যাবে না। এরপরই এই ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন দফতরের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়। 

আরও পড়ুন অলিম্পিক গৌরবের অধিকারী ও ক্রীড়া চিকিৎসার পথপ্রদর্শক ভেস পেজের জীবনাবসান

এই আবহে আজ বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে যাদের যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা এবার আধার কার্ড জমা দিয়ে আপত্তি জানাতে পারবেন। 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিহারের প্রতিটি জেলার ওয়েবসাইটে বাদ পড়ে যাওয়া ৬৫ লক্ষ ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে, যাঁদের নাম ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ছিল, কিন্তু খসড়া তালিকায় নেই। সেই সঙ্গে, স্থানীয় ভাষার সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই তথ্য প্রচার করতে হবে। তার পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে জবাব দিতে হবে, ওই সমস্ত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার কারণ। 

এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ১১টি পরিচয়পত্র গ্রহণ করলেও, সেই তালিকায় আধার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কারণ, কমিশনের দাবি, আধার পরিচয়পত্র হলেও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। কিন্তু আজ বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানায়, আধার একটি আইনি স্বীকৃত পরিচয় এবং স্থায়ী বাসস্থানের প্রমাণ। এক্ষেত্রে কমিশনকে তা গ্রহণ করতেই হবে।

আদালত থেকে জানানো হয়েছে , "তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন, তারা আপত্তির জানানোর সময় আধার কার্ড জমা দিতে পারবেন।"

এই মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি ও প্রশান্ত ভূষণ। তাঁরা জানান, কমিশনের এই আধার না মানার নিয়মে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষেরা। 

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ বলেন, "আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এখন থেকে আধার গ্রহণ করবে। সবথেকে বড় স্বস্তির খবর এটাই।"

অ্যাডভোকেট শাদান ফারাসাত সংবাদমাধ্যমে জানান, "আদালতের রায়ের পর অনেক মানুষ অন্তত জানতে পারবেন কেন তাঁদের নাম কাটা হয়েছে। এরপর তারা পুনরায় আপিল করতে পারবেন। এটা একটা বড় স্বস্তি।"

যদিও জানা যাচ্ছে, এই নির্দেশ আপাতত শুধু বিহারের জন্য। অন্যান্য রাজ্যের SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় এটি প্রযোজ্য হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, আপাত পক্ষে এই আদেশের ফলে বহু মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার রাস্তা খুলে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

                                                                                                                                                                                     -দিশা দাস

পরবর্তী খবর