সর্বশেষ সংবাদ
অলিম্পিক গৌরবের অধিকারী ও ক্রীড়া চিকিৎসার পথপ্রদর্শক ভেস পেজের জীবনাবসান

অলিম্পিক গৌরবের অধিকারী ও ক্রীড়া চিকিৎসার পথপ্রদর্শক ভেস পেজের জীবনাবসান

১৯৪৫ সালের এপ্রিলে গোয়ায় জন্মেছিলেন ডক্টর ভেস পেজ। তিনি ছিলেন ভারতের প্রাক্তন হকি অলিম্পিয়ান, মিউনিখ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী, খ্যাতনামা স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজের বাবা। বৃহস্পতিবার ভোর রাত তিনটের সময়, ৮০ বছর বয়সে, দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর সময় ছেলের হাত তাঁর পাশে ছিল।

আরও পড়ুন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কথার লড়াই চরমে! লাগাতার হুমকির জবাবে জল চুক্তি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিল দিল্লি

ভেস পেজের ক্রীড়াজীবন ছিল বহুমুখী সাফল্যে ভরা। ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে তিনি ভারতীয় হকি দলের মিডফিল্ডার হিসেবে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। তার আগের বছর, ১৯৭১ সালের বার্সেলোনা হকি বিশ্বকাপেও দেশের হয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। শুধু হকি নয়, ক্রিকেট, ফুটবল এবং রাগবি খেলাতেও তাঁর ছিল অসাধারণ দক্ষতা। রাগবির প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রাগবি ফুটবল ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন এবং কলকাতা ক্রিকেট ও ফুটবল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও সমান কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন ভেস পেজ। কলকাতায় মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি স্পোর্টস মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ হন। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ও বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ডোপিং-বিরোধী সচেতনতা কর্মসূচিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং ক্রীড়াবিদদের ডোপিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষিত করেন। তাঁর চিকিৎসা জ্ঞান ও খেলাধুলার অভিজ্ঞতার মিশ্রণে অসংখ্য খেলোয়াড় উপকৃত হয়েছেন, যা ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে ভেস পেজ বিয়ে করেছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় এবং বাঙালি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রপৌত্রী জেনিফার ডাটনকে। তাঁদের একমাত্র সন্তান লিয়েন্ডার পেজ ভারতের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা, যিনি ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে সিঙ্গলসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। ভেস ও লিয়েন্ডার ভারতের ইতিহাসে একমাত্র পিতা-পুত্র জুটি, যারা দু’জনেই অলিম্পিকে পদক জিতেছেন।

তাঁর প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ভেস পেজ ছিলেন ভারতীয় ক্রীড়াজগতের অন্যতম কিংবদন্তি, যার অবদান চিরকাল মনে রাখবে দেশ।

                                                                                                                                                                                                                                                                -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর