চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত, যা একসময় কঠিন রোগ বলে মনে করা হতো, সেগুলো নিরাময়ের আশা তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা খুব দ্রুত এসব রোগকে পৃথিবী থেকে পুরোপুরি দূর করতে পারব।
সম্প্রতি বুদাপেস্টের একজন ডাক্তারি ছাত্র ক্রিস ক্রিসান্থো একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্যান্সার, অন্ধত্ব এবং পক্ষাঘাত (paralysis) সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা সম্ভব হবে। তার মতে, সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এই রোগগুলির জন্য নতুন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।
অন্যদিকে,ক্রিস ক্রিসান্থো তিনটি রোগের কথা বলেছেন, যেগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি নিরাময় হতে পারে:
১. ক্যান্সার: এখন বিজ্ঞানীরা কেমোথেরাপির পরিবর্তে mRNA ভ্যাকসিন ব্যবহার করছেন। এই ভ্যাকসিন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে এটি ক্যান্সারের কোষকে চিনতে পারে এবং তাদের ওপর আক্রমণ করে। ব্যক্তিগতভাবে তৈরি করা ভ্যাকসিন এবং জিন এডিটিং-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তিও চূড়ান্ত পরীক্ষার পর্যায়ে আছে। এর ফলে ক্যান্সারকে হয়তো খুব শীঘ্রই আর প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে দেখা হবে না।
২. অন্ধত্ব: জিন এডিটিং এবং স্টেম সেলের মতো প্রযুক্তির সাহায্যে রেটিনার রোগে আক্রান্ত রোগীরা আবার দেখতে পাচ্ছেন। একটি নতুন প্রযুক্তি, যার নাম 'প্রাইম এডিটিং', জন্মগত অন্ধত্বের কারণ যেসব জিনে থাকে, সেগুলো ঠিক করতে পারে।
৩. পক্ষাঘাত: চীনে কিছু সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে আবার হাঁটতে সক্ষম হয়েছেন। এই পদ্ধতিতে মস্তিষ্কে এবং মেরুদণ্ডে এমন যন্ত্র বসানো হয়, যা মস্তিষ্কের সংকেত সরাসরি পায়ে পৌঁছে দেয়, ফলে মেরুদণ্ডের আঘাতের কারণে সৃষ্ট বাধা অতিক্রম করা যায়।
আরও পড়ুন :SIR বিরোধী বিক্ষোভের জেরে উত্তপ্ত দিল্লি! আটক রাহুল গান্ধী সহ বহু সাংসদ
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া:
এই খবরের পর ইন্টারনেটে অনেকেই তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বিজ্ঞানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আবার অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, যেহেতু ওষুধ কোম্পানিগুলো ক্যান্সার চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক টাকা রোজগার করে, তাই হয়তো তারা সম্পূর্ণ নিরাময় নিয়ে আসবে না।
কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, যদি অন্ধত্ব নিরাময় করা যায়, তবে ক্ষীণদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টির মতো সাধারণ সমস্যাও কি একই উপায়ে ঠিক করা সম্ভব হবে? এছাড়া অনেকে ডায়াবেটিস এবং HIV-এর নিরাময় নিয়েও আশার কথা বলেছেন।
সবাই আশা করছেন, এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো যেন সবার জন্য সহজে পাওয়া যায় এবং সাশ্রয়ী হয়।
ভারতে ক্যান্সারের অবস্থা:
'দ্য ল্যানসেট' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ক্যান্সার ভারতে একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। মোট ক্যান্সার রোগীর সংখ্যার দিক থেকে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থানে আছে।
তবে আশার কথা হলো, বিজ্ঞানীরা ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে এই রোগগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যদি এই গবেষণাগুলো সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে আগামী দিনে হয়তো একটি সুস্থ পৃথিবী দেখতে পাওয়া যাবে।
-অঙ্কিতা পাল