সর্বশেষ সংবাদ
দীর্ঘ ৬ বছর পর প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন চীন সফরে! নতুন জল্পনা SCO সম্মেলন ঘিরে

দীর্ঘ ৬ বছর পর প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন চীন সফরে! নতুন জল্পনা SCO সম্মেলন ঘিরে

গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চীন সফরে যাচ্ছেন। জানা গেছে,আগামী ৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের তিয়ানজিন শহরে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্মেলনে তিনি যোগ দেবেন। 

এই খবর সামনে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই সফরকে অনেকেই ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে শীতল হয়ে পড়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সর্বশেষ চীন সফর ছিল ২০১৯ সালে। তবে, তিনি গত বছরের অক্টোবর মাসে কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এর পর এবার তার সরাসরি চীন সফরকে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের দিকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন ভারতের পন্যের উপর ট্যারিফ বাড়িয়ে চলেছেন ট্রাম্প! এতে নিজের দেশের ক্ষতি করছেন না তো?
ভারত এবং চীনের সম্পর্ক বরাবরই জটিল এবং বহুস্তরীয়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সীমানা নিয়ে নানান সমস্যা দেখা দিয়েছে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ সেই সম্পর্কের সবচেয়ে তিক্ত অধ্যায়। এরপর থেকে বারবার সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে এবং কমেছে। বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রায়শই মতপার্থক্য দেখা যায়। গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। দুই দেশের মধ্যে সামরিক এবং কূটনৈতিক স্তরে একাধিক বৈঠক হলেও সম্পর্কের সেই পুরোনো উষ্ণতা ফিরে আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর চীন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, SCO-এর মতো মঞ্চে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি বৈঠক হলে তা দুই দেশের মধ্যকার অচলাবস্থা কাটাতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের আঞ্চলিক সম্মেলনগুলির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

এদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। তার কিছু অপ্রত্যাশিত মন্তব্য এবং সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশের মধ্যেকার সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি তিনি ভারতের বিপক্ষে গিয়ে ভারতের ওপর শুল্কের মাত্রা ২৫% অতিরিক্ত করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মতো দুটি বৃহৎ শক্তির মধ্যেকার সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর তাই শুধুমাত্র দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বৃহত্তর বিশ্ব রাজনীতিতেও একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সফর থেকে কী ফল পাওয়া যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।

                                                                                                                                 -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর