যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনের আগেই চমক দিতে মরিয়া ট্রাম্প। সরাসরি ভারত ও চিনকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা। জানা যাচ্ছে, আরও বেশি ট্যারিফ চাপানোর পরিকল্পনায় তিনি। তবে, ট্রাম্পের এই উদ্ভট সিদ্ধান্তে খোদ চাপের মুখে আমেরিকা।
সূত্র মারফত খবর, বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানির উপর প্রায় ২০০% পর্যন্ত ট্যারিফ লাঘু করার চিন্তাভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মূলত ভারতকে নিশানা করতে চাইছেন তিনি। তবে অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে লাভ নয়, উলটে আমেরিকার ঘাড়েই বাড়বে ওষুধের খরচ।
জানা যাচ্ছে, নতুন করে মার্কিন মুলুকে স্বনির্ভরতা গড়ে তুলতে ওষুধ শিল্পে বিনিয়োগের ডাক দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দেশের মধ্যেই ওষুধ তৈরি হলে জাতীয় নিরাপত্তা যেমন সুনিশ্চিত হবে, তেমনই দামও কমবে।
বর্তমানে আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় একটা অংশ ভারত ও চিনের উপর নির্ভরশীল। মূলত, জেনেরিক ওষুধ ও কাঁচামাল আসে এই দুই দেশ থেকেই। তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার বাজারে ৯০ শতাংশ প্রেসক্রিপশনে ব্যবহৃত ওষুধই জেনেরিক, যার সিংহভাগ আমদানি হয় ভারত থেকে।
আরও পড়ুন ঘূর্ণাবর্ত আর মৌসুমি অক্ষরেখার জোড়া আক্রমণ বৃষ্টিতে ভাসছে বাংলা
ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। এদের মধ্যে AstraZeneca জানিয়েছে, তারা ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে রাজি। এছাড়াও Johnson & Johnson এবং Eli Lilly-ও ৫৫ ও ২৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে আমেরিকার নিজস্ব ওষুধ শিল্পে।
তবে, বড় কারখানা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কারণ, ওষুধ তৈরির মূল কাঁচামাল এখনও বিদেশ নির্ভর। আমেরিকায় শ্রম, বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতির খরচও অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। তার উপর কাঁচামালের উপর আমদানি শুল্ক বসলে দাম আরও বাড়বে। অর্থাৎ, ওষুধ তৈরি হলেও তা সস্তা হবে না, উলটে সাধারণ মানুষের উপর চাপ আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনেরিক ওষুধ থেকে লাভ খুব কম হওয়ায় সংস্থাগুলি তেমন উৎসাহ দেখাচ্ছে না। কারখানা চালু করতেও অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে সরকার যদি বড়সড় আর্থিক সহায়তা না দেয়, হয়তো অনেক সংস্থাই মাঝপথে পিছিয়ে যেতে পারে।
ওষুধ উৎপাদনে 'Made in USA' ভাবনাকে ঘিরে এখনই সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে দ্বিধা-বিভাজন স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের উপর চাপ বাড়িয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আদতে আমেরিকার ওষুধ বাজারকেই সংকটে ফেলছে।
-দিশা দাস