❝আকাশ জুড়ে জমাট মেঘ… হঠাৎ কালো হয়ে এল চারদিক… বজ্রপাতের গর্জন আর দমকা হাওয়ার তাণ্ডব! ঠিক এই দৃশ্যের মুখোমুখি হচ্ছে আজ কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ…❞
গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তার সঙ্গে রয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ আর ঝোড়ো হাওয়ার উপদ্রব। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে, মধ্য বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার উপর।
এই সময় মৌসুমি অক্ষরেখা ফিরোজপুর, কারনাল, মোরাদাবাদ, খেরি, জলপাইগুড়ি হয়ে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে রয়েছে। আর ঠিক সেই কারণেই চলতি সপ্তাহে রাজ্য জুড়ে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকবে বলে মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে অন্তত ১১টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সঙ্গে থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া।হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়ায় আজ হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার জন্য। আগামীকাল, অর্থাৎ শুক্রবার, ভারী বৃষ্টি চলবে দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদেও। তবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আগামী ক’দিনের মধ্যে একটু একটু করে কমে আসতে পারে।
আরও পড়ুন 'প্রয়োজনে মূল্য দেব, তবু আপোস নয়' - ট্রাম্পকে কড়া জবাব মোদীর
উত্তরবঙ্গে এখনই দুর্যোগের ইঙ্গিত নেই। বরং সেখানে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে আজ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার পরিমাণ ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই চার জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে, সেখানেও জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। শুক্র, শনি এবং রবিবার – এই তিন দিনেও উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এমনকি সোমবার আবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পঙে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা ছিল। বেলা বাড়লেও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি তেমন। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি কম। গতকাল, অর্থাৎ বুধবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৮ ডিগ্রি কম।
সুতরাং বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা এখন বৃষ্টির ঘেরাটোপে। ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত সব কিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক রকম দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ। সতর্ক থাকতে হবে আমাদের বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সেইসব অঞ্চলে, যেখানে বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। তাই সতর্ক থাকুন, সাবধানে থাকুন।
-জ্যোতি সরকার