পশ্চিমবঙ্গে ফের বন্যা পরিস্থিতি। টানা বৃষ্টি ও ডিভিসি-র ছেড়ে দেওয়া জলেই এই বিপর্যয়। হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন ডিভিসি আগে থেকে রাজ্যকে কিছু জানায়নি। এই নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ফের সংঘাত।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় চারটি প্রশ্ন করেন জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে। তিনি জানতে চান,
১. ডিভিসি কি ২৭ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে?
২. জল ছাড়ার আগে কি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল?
৩. যদি হয়ে থাকে, তার বিশদ বিবরণ কোথায়?
৪. আর না হয়ে থাকলে, কেন আলোচনা হয়নি?
আরও পড়ুন ইলন মাস্কের Grok চ্যাটবটে বিতর্কিত 'Spicy Mode', AI-এর অন্ধকার দিক নিয়ে নতুন উদ্বেগ!
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাতিল জানান, ১৮ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত, মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ডিভিসি ২৭,৯৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একটি কমিটির মাধ্যমে। সেই কমিটিতে রয়েছেন সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, রিভার ম্যানেজমেন্ট, এবং ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি। মন্ত্রী আরও বলেন, ডিভিসি নিয়ম মেনেই জল ছেড়েছে।পানীয় জল, সেচ, নৌ চলাচল ও শিল্পের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই জবাবে সন্তুষ্ট নন তৃণমূল।
ঋতব্রতের দাবি,‘‘সরকার জানায়নি আদৌ কোনো আলোচনা হয়েছে কি না। শুধু বলেছে কমিটি আছে। কিন্তু কমিটি থাকলেই কি আলোচনা হয়?’’ তিনি বলেন,তারা জিজ্ঞেস করেছিলেন দু’মাসে কত জল ছাড়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র শুধু ২৮ দিনের হিসাব দিয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, পুরো জুন ও জুলাই মাসে ডিভিসি ৫০,২৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এবার জল ছাড়ার পরিমাণ ৩০ গুণ বেশি। ২০২৪ সালের তুলনায় ১১ গুণ বেশি।
ঋতব্রতের কটাক্ষ,‘‘এই বন্যা প্রাকৃতিক নয়, সম্পূর্ণ মানুষের তৈরি। বিজেপি সরকার তথ্য লুকোচ্ছে। ডিভিসি-কে দিয়ে জেনেশুনে জল ছাড়িয়েছে। বাংলার ফসল নষ্ট হয়েছে, মানুষ ঘর হারিয়েছে।’’শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দেন,‘‘এই জলের তোড়েই ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির রাজনৈতিক সলিল সমাধি হবে। বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে।’’
এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আরও একবার স্পষ্ট হল, প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজনৈতিক চাপানউতোর কতটা গভীর হতে পারে। ডিভিসি ও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন ইস্যু আরও কতদূর রাজনৈতিক রূপ নেবে, সেটাই এখন দেখার।
-জ্যোতি সরকার