ইলন মাস্কের AI স্টার্টআপ xAI সম্প্রতি তাদের গ্রক চ্যাটবটে একটি নতুন ফিচার চালু করেছে, যার নাম "Grok Imagine"। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা টেক্সট বা ছবি ব্যবহার করে সহজেই ছোট ছোট AI-জেনারেটেড ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু এই নতুন সুবিধার পাশাপাশি যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা হলো এর 'স্পাইসি মোড' (Spicy Mode)।
এই মোডটির কারণে AI-এর অপব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।'স্পাইসি মোড' হল বিতর্কিত
গ্রক ইমাজিনের চারটি অ্যানিমেশন স্টাইলের মধ্যে একটি। এই মোডটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা দিয়ে সহজেই অনাবৃত বা অশালীন কন্টেন্ট তৈরি করা যায়। এর ফলে, ইন্টারনেটে অনেকেই বিকিনি পরা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ অনাবৃত ছবি তৈরি করে শেয়ার করছেন।
আরও পড়ুন মেডিক্যাল কলেজে আগুন! নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন
যখন গুগল, OpenAI-এর মতো অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের AI চ্যাটবটকে এমন কন্টেন্ট তৈরি করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই গ্রকের এই ফিচারটি AI-এর নৈতিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই 'স্পাইসি মোড' ব্যবহারের সময় একটি সতর্কতা দেখানো হয় যে, স্থানীয় আইন ভঙ্গ করে এমন কন্টেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই সেই সতর্কতাকে উপেক্ষা করছেন। এর ফলে ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর আগে টেইলর সুইফটের মতো তারকাদের AI-জেনারেটেড আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
গ্রক ইমাজিন এখন বিটা পর্যায়ে রয়েছে এবং শুধুমাত্র সাবস্ক্রাইবারদের জন্য উপলব্ধ। কিন্তু যদি এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়, তাহলে এই ধরনের আপত্তিকর কন্টেন্ট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গ্রক চ্যাটবট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এটিই ছিল প্রথম এআই চ্যাটবট যাকে একটি দেশে নিষিদ্ধ করা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে গ্রককে তুরস্কে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, AI প্রযুক্তি যতটা সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, তার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকির জন্মও দিতে পারে।
-অঙ্কিতা পাল