সর্বশেষ সংবাদ
জাল পরিচয়ে কলকাতায় থাকছিলেন বাংলাদেশি মডেল! আধার-ভোটার কার্ডেও চলছিল ফাঁকি

জাল পরিচয়ে কলকাতায় থাকছিলেন বাংলাদেশি মডেল! আধার-ভোটার কার্ডেও চলছিল ফাঁকি

কলকাতায় গ্রেফতার বাংলাদেশি মডেল! অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগ। আধার-ভোটার কার্ডেও চলছিল ফাঁকি।

সূত্র মারফত খবর, দীর্ঘদিন ধরে জাল পরিচয়ে কলকাতায় থাকছিলেন বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী শান্তা পাল। জানা যাচ্ছে, তার পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও, তা নবীকরণ করেননি। তার পরিবর্তে বারেবারে বদলে নিচ্ছিলেন ঠিকানা আর পরিচয়। অবশেষে বুধবার রাতে যাদবপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। 

২০১৯ সালে 'মিস এশিয়া গ্লোবাল বাংলাদেশ' খেতাব জিতেছিলেন শান্তা পাল। অভিনেত্রী হিসেবে 'ব্যাচেলর ইন ট্রিপ' ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল শান্তার। মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একসময় বিমানসেবিকা হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২০ সালে তিনি পরিচালক রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন।
 

 

আরও পড়ুন দক্ষিণবঙ্গ পেল স্বস্তি, উত্তরবঙ্গে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা

 

পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে অভিনেত্রীর ভুয়ো আধার, ভোটার কার্ড ও মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট। পুলিশ সূত্রে খবর, শান্তার কাছে ভারতীয় ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে বর্ধমানের একটি ঠিকানা থেকে তিনি আধার কার্ড তৈরি করিয়েছিলেন। 

আরও জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে যাদবপুরের বিজয়গড় এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন শান্তা। এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার আরও কিছু এলাকায় বিভিন্ন নামে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। এক ঠিকানায় তাঁর নামে প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিলও আসে।

শান্তার আধার কার্ডে যেই ঠিকানার উল্লেখ রয়েছে, সেই এলাকার বাসিন্দারা কেউ তাকে চেনেনই না। স্থানীয়দের থেকে খোঁজ করে জানা গেছে, এই নাম তাঁরা আগে কখনও শোনেননি। আধার কার্ডে তার বাবার নাম দেওয়া রয়েছে স্বপন পাল, কিন্তু এই নামটিও স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত। 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শান্তাকে হেফাজতে নিয়েছে লালবাজার থানার পুলিশ। এমনকি, পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর, পুলিশ তার বিক্রমগড়ের ফ্ল্যাটে হানা দেয়। সেখানে আরও কয়েকটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, শান্তার স্বামী অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা। কীভাবে তিনি ভারতীয় পরিচয়পত্র পেলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার শান্তাকে আদালতে তোলা হলে, আদালত তাকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এর পিছনে কোনো চক্র চলছে কিনা, পুলিশ তার তদন্ত চালাচ্ছে। এই ঘটনায় শান্তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ পুলিশের।

                                            -দিশা দাস

পরবর্তী খবর