সর্বশেষ সংবাদ
ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল পেলেন অসমের সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য! কেন এই সম্মাননা?

ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল পেলেন অসমের সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য! কেন এই সম্মাননা?

ভারত ফের সন্মানিত হল বিশ্ব দরবারে,আসামের ভূমিপুত্র সঞ্জীব ভট্টাচার্যের হাত ধরে। টাওয়ার অফ লন্ডনে এক আবেগঘন মুহূর্তে ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল (BEM) দিয়ে সম্মানিত করা হলো সঞ্জীব ভট্টাচার্যকে। এই সম্মাননা তাঁর কয়েক দশকের কর্মজীবনের প্রতিচ্ছবি, যা তিনি উৎসর্গ করেছেন সড়ক নিরাপত্তা, জনকল্যাণ এবং ব্রিটেনের নাগরিক জীবনে।

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসাম থেকে আসা সঞ্জীব ভট্টাচার্য গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্স-এ স্নাতক হওয়ার পর জনসেবার এক অসাধারণ পথ তৈরি করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন। ইন্ডিয়ান রেড ক্রস সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি তৃণমূল স্তরের প্রচারাভিযান এবং মানবিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন। তাঁর প্রাথমিক কাজগুলির মধ্যে ছিল বন্যা ত্রাণ, চক্ষু শিবির, এবং খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ,যা জনসেবায় তাঁর জীবন উৎসর্গ করার ভিত্তি স্থাপন করে।

ইংল্যান্ডে চলে যাওয়ার পর, সঞ্জীব জনকল্যাণে তাঁর প্রতিশ্রুতি বজায় রাখেন। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম সোস্যাল হাউজিং অর্গানাইজেশনে কাজ করেন। তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য ছিল লন্ডনের বিভিন্ন বরোতে বসবাসের অবস্থার উন্নতি, বাসিন্দাদের ক্ষমতায়ন, এবং শক্তিশালী প্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলা।

বর্তমানে লন্ডনে বসবাসকারী সঞ্জীব ভট্টাচার্য এক বিরল সম্মান অর্জন করেছেন, তিনিই রাজধানী শহর লন্ডন থেকে মনোনীত একমাত্র ব্যক্তি, যাকে এইবছর কিংস অনার্স প্রেস কনফারেন্সে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এটি মন্ত্রিসভা কার্যালয় এবং অনার্স সচিবালয় দ্বারা আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক সমাবেশ। এই মঞ্চটি শুধুমাত্র তাঁর সেবার উত্তরাধিকারকেই তুলে ধরেনি, বরং তাঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে,যা খুব কম মানুষই পান।

তিনি একজন অনুমোদিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষক হিসেবে সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা দিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করেছেন। তিনি The AA (১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত) এবং ব্রিটিশ স্কুল অফ মোটররিং (১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত)-এর সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষক এবং পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে কাজ করার সময় ভট্টাচার্যই প্রথম ইকো-সেফ ড্রাইভিং, বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা, এবং সকলের জন্য কমিউনিটি শিক্ষার উপর কর্মশালার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং ওয়ালথাম ফরেস্টের মতো বরোগুলিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি তরুণ শিক্ষার্থী, বয়স্ক বাসিন্দা এবং দুর্বল গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহারিক সড়ক নিরাপত্তা নির্দেশিকার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর “কানেক্টিং উইথ কমিউনিটিজ” প্রচারাভিযানটি তার অন্তর্ভুক্তিমূলক মডেল এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই প্রচারাভিযান জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, ধর্মভিত্তিক সংগঠন, এবং বিভিন্ন প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সহ বৃহত্তর ও বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়কে যুক্ত করেছে।

কোভিড-১৯ সংকটের সময়ও সঞ্জীব ভট্টাচার্যের স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রচেষ্টা তাঁর মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় থাকবে। তিনি খাদ্য বিতরণ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন, এবং অভাবী পরিবারগুলির বিচ্ছিন্নতা দূর করেছেন, বলা যেতে পারে।এই কাজগুলি পেশার তাগিদে নয়, বরং সহানুভূতির উপর ভিত্তি করে ছিল।

রাজনৈতিকভাবে, ভট্টাচার্য যথেষ্ট সক্রিয়,তিনি পূর্বে ইলফোর্ড নর্থ কন্সটিটুয়েন্সিতে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ২০১০, ২০১৪, এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবেও দাঁড়িয়েছিলেন, এরপর পার্টির নীতির সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে, ভট্টাচার্য কনজারভেটিভ পার্টিতে যোগ দেন।

রাজনীতির বাইরে, সড়ক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণে ভট্টাচার্যের অবদান স্বচ্ছতা এবং নাগরিক সচেতনতার প্রতি তাঁর দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আঞ্চলিক প্রভাব এবং জাতীয় স্বীকৃতি নথিভুক্ত করার তাঁর প্রচেষ্টা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনসেবার মাইলফলক গুলিকে তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের পর চন্দ্রভাগায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় পদক্ষেপ ভারতের

লন্ডনে তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে ভট্টাচার্যের আনন্দময় জীবন। তাঁর মেয়ে সমীক্ষা, মাত্র তেরো বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ ইয়ং অ্যাডাল্ট ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিবারের জন্য সাহিত্যিক সম্মান বয়ে এনেছেন,এই অসাধারণ পরিবারের কৃতিত্বের তালিকায় এটি আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।

সেন্ট্রাল চ্যান্সারি অফ দ্য অর্ডারস অফ নাইটহুড থেকে মহামান্য রাজা তৃতীয় চার্লস এর গার্ডেন পার্টিতে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়ে ভট্টাচার্যের গল্প নতুন করে বিকশিত হচ্ছে। তাঁর এই জাতীয় সম্মান তাঁর নিরন্তর জনসেবার প্রতীক।

                                                                                                                                                      -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর