ভারত এবার পাক আপত্তি উড়িয়ে চন্দ্রভাগা নদীর উপর বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চলেছে।
এই প্রকল্পের নাম সাওলকোট হাইড্রোইলেকট্রিক প্রজেক্ট। এর মাধ্যমে ১৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে। এটি জম্মু ও কাশ্মীরের ইতিহাসে বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে চলেছে। এই প্রকল্পের জন্য টেন্ডার ডেকেছে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (NHPC)। টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ই সেপ্টেম্বর। এনএইচপিসি এবং জম্মু ও কাশ্মীর পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটি শুরু হলেও, পাকিস্তান বারবার এর বিরোধিতা করে এসেছে। তারা দাবি করেছে, এই প্রকল্প চন্দ্রভাগার জলপ্রবাহে প্রভাব ফেলবে। কারণ, পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি এই নদীর জলের উপর নির্ভর করে। ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সিন্ধু জলচুক্তি হয়েছিল,তা বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার পাঁচটি উপনদীর জল দুই দেশ ভাগ করে ব্যবহার করে।
তবে, চলতি বছর এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে,ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয়। তখনই সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করে ভারত। ফলে, এখন আর পাকিস্তানের অনুমতি ছাড়াই এই প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের কাজ করতে গেলে চন্দ্রভাগা নদীর তীরের অনেক গ্রামকে সরিয়ে দিতে হবে। সরকার এই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে। এছাড়া, প্রায় ৩ হাজার একর বনভূমি এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের বন উপদেষ্টা কমিটি।
আরও পড়ুন নিয়োগ দুর্নীতিতে নয়া মোড়! ২৬-এর ভোটের আগেই ইডির নজরে তৃণমূল মন্ত্রী
পাকিস্তান শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তারা বলছে, এই নদীর জল অনেক পাকিস্তানি নাগরিকের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।
ভারতের এই পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ,তেমনি কাশ্মীরের উন্নয়নের দিক থেকেও তা এক বড় পদক্ষেপ।
-জ্যোতি সরকার