বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসেন ভারতের ১৫তম এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, কল্যাণী AIMS এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদান এবং দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পুজো দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ছিল রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গ সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বুধবার দুপুরে বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতায় পৌঁছন রাষ্ট্রপতি। এরপর সরাসরি কল্যাণী এইমসের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে মোট ৪৮ জন এমবিবিএস ডিগ্রি এবং ৯ জনকে পোস্ট ডক্টরাল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসকদের রোগমুক্ত জীবন ধারণের উপর আরও বেশি সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার পরিবর্তন করে ডায়াবেটিসের মতো রোগ থেকে মুক্তির পথ দেখান, যা মানুষের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করবে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও স্বনামধন্য চিকিৎসক বিধান চন্দ্র রায়ের উদাহরণ টেনে চিকিৎসকদের তাঁর কর্মজীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিতে বলেন এবং AIMS এর সুনাম বজায় রাখার নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
কল্যাণী এইমসের অনুষ্ঠান শেষে মেয়ে ইতিশ্রী মুর্মুকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পৌঁছন। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়-সহ অন্যান্যরা। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। বেলা বারোটার পর দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল মন্দিরে এবং বন্ধ রাখা হয় ফেরি চলাচল। গঙ্গায় লাগাতার টহল দেয় ভারতীয় নৌসেনা।
আরও পড়ুন রাজভবনের কাছে রাষ্ট্রপতির চিঠি! অপরাজিতা বিল নিয়ে ফের শুরু বিতর্ক
সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ মন্দিরে প্রবেশ করে ধূপ-প্রদীপ দিয়ে আরতি করেন রাষ্ট্রপতি। এই সময় ভবতারিণী মায়ের হাত থেকে একটি ফুল গড়িয়ে পড়লে রাষ্ট্রপতি সেটিকে আশীর্বাদ হিসাবে চেয়ে নেন। তাঁর মেয়ে ইতিশ্রী মুর্মু হাতের একটি আংটি মায়ের পায়ে ছুঁয়ে নেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের তরফে রাষ্ট্রপতির হাতে মানপত্র, বই, ভবতারিণী মায়ের এবং মন্দিরের ছবি তুলে দেওয়া হয়। প্রায় আধঘণ্টা মন্দিরে থাকার পর রাষ্ট্রপতি রওনা দেন।বাংলায় এই ছোট সফরের পর বৃহস্পতিবারই তিনি রাজধানী ফিরে যাবেন।
-অঙ্কিতা পাল