অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই মোদি-ট্রাম্প সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে বারংবার। ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতিতে ট্রাম্প নিজের কৃতিত্বকেই তুলে ধরেছেন বিশ্বের কাছে, তিনি এও জানিয়েছেন যে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ঢাল করে তিনি শান্ত করেছেন দুই দেশকে।
তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মন্তব্যের উল্টো কথা জানিয়েছেন প্রথম থেকেই। এমনকি সম্প্রতি সংসদেও তিনি জানান এই যুদ্ধ বিরতিতে তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকা নেই। ঠিক তারপরেই, ভারতীয় সময়ানুসারে বুধবার বিকেল ৫ টার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ভারতকে বন্ধুরাষ্ট্র বলে অভিহিত করে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ হওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে এই ঘোষণায়।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। তাঁর এই পোস্টে প্রকাশ্যে এসেছে ভারতের প্রতি অসন্তোষজনক মনোভাবও। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের সময় যখন বিশ্ব রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, তখন ভারতের রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম এবং জ্বালানি কেনা নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যই সেই মনোভাবকে স্পষ্ট করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন, যা পরে স্থগিত করা হয়। এরপর ভারতের ওপর কত শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে তা নিয়েও চলছিল প্রবল গুঞ্জন । ভারত আশা করেছিল যে তাদের ওপর শুল্কের হার ১৫-২০ শতাংশের মধ্যে থাকবে, যেমনটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশ, যেমন ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন (১৯%), ব্রিটেন (১০%), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (১৫%) এবং জাপান (১৫%)-এর ক্ষেত্রে করে এসেছে।কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ভারতের ওপর এই ২৫% শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে আগামী ১লা আগস্ট থেকে।
অন্যদিকে, এই শুল্ক ঘোষণার জবাবে বুধবার রাতেই নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত হয় এক বিবৃতি। যেখানে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে, এই শুল্কের প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ICRA লিমিটেডের মুখ্য অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার জানান "যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তখন আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে রপ্তানি কিছুটা কমবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে দেরি হবে। তাই ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৬.২% করেছিলাম। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রস্তাবিত এই শুল্ক এবং জরিমানা আমাদের অনুমানের চেয়ে বেশি, এবং এটি ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিতে বাধা দিতে পারে। যদিও ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে আরোপিত জরিমানার পরিমাণের ওপর।"
সর্বোপরি বলা যায়, নতুন শুল্ক এবং জরিমানার ঘোষণার পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
-অঙ্কিতা পাল