সর্বশেষ সংবাদ
আইনি পদক্ষেপ মমতার বিরুদ্ধে! সৌমেন্দু অধিকারী অভিযোগ দায়ের করলেন দিল্লিতে

আইনি পদক্ষেপ মমতার বিরুদ্ধে! সৌমেন্দু অধিকারী অভিযোগ দায়ের করলেন দিল্লিতে

ভারতীয় রাজনীতিতে এখন সোশ্যাল মিডিয়া শুধুই যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এক শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র। একটি মাত্র ভিডিও ক্লিপ, একটি পোস্ট সেকেন্ডের মধ্যে বদলে দিতে পারে জনমতের গতিপথ, ছড়িয়ে পড়তে পারে উত্তেজনার ঝড়। ঠিক তেমনই এক বিতর্কের কেন্দ্রে এবার উঠে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 দিল্লিতে পরিযায়ী বাঙালিদের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তাঁর শেয়ার করা একটি ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। কিন্তু বিজেপি নেতা সৌমেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ভিডিওটি ভুয়ো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি নিয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর, যা রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় পর্যায়েই ছড়িয়ে পড়েছে দাবানলের মতো।

ঘটনার সূত্রপাত ২৭ জুলাই, যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স (প্রাক্তন টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দিল্লি পুলিশ আধার কার্ড যাচাইয়ের নামে এক পরিযায়ী মা ও তাঁর শিশুসন্তানকে মারধর করছে। সঙ্গে মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিচালিত শাসনব্যবস্থায় বাংলাভাষীদের উপর ভাষাভিত্তিক সন্ত্রাস চলছে। তিনি লেখেন, “এদেখুন কীভাবে একটি শিশুকেও রেহাই দিচ্ছে না বিজেপির ভাষা-সন্ত্রাস।”

এই পোস্ট সামনে আসতেই বিজেপির তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এরই প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের কমিশনারকে চিঠি দিয়ে মমতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

আরও পড়ুন  EM বাইপাসের পাশে প্লাস্টিক গোডাউনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড! মুহূর্তে ছাই একাধিক ঝুপড়ি

 

বিষয়টিকে আরও জটিল করে তোলে পূর্ব দিল্লির ডিসিপি অভিষেক ধানিয়ার বিবৃতি। তিনি জানান, ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখে জানা গেছে, সেটি একটি সাজানো দৃশ্য। ভিডিওতে থাকা পরিবারটি স্বীকার করেছে যে তারা এটি তৈরি করেছে এক আত্মীয়ের অনুরোধে, যিনি আবার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার এক রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে এই কাজ করেন। ডিসিপির স্পষ্ট বক্তব্য, “এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ফেক এবং এর মাধ্যমে দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার চেষ্টা হয়েছে।”

এই বিবৃতির পর সৌমেন্দু অধিকারীর অভিযোগ আরও জোরালো রূপ পায়। তাঁর মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে গিয়ে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যে ভিডিও ছড়ায়, তবে তা শুধুই নিন্দনীয় নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে । 

সৌমেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শাসক তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে উত্তাপ আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক প্রচারের নামে আদতে কি জনমত প্রভাবিত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে? দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, এবং আগামী দিনে এই ঘটনার পরিণতি রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

একদিকে মমতার ‘জনগণের পাশে দাঁড়ানো’র ভাবমূর্তি, অন্যদিকে বিজেপির ‘ফ্যাক্ট চেক’ ভিত্তিক পাল্টা আক্রমণ এই সংঘাতে শেষ কথা বলবে তথ্য এবং আইন।

                                                                                                                                                                   -সোনালী মাইতি

পরবর্তী খবর