সর্বশেষ সংবাদ

"পাকিস্তান কংগ্রেসের ভুলের ফসল"! সংসদে মোদি বনাম রাহুল

মুখোমুখি মোদি, রাহুল। সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তীব্র বিতর্ক। পরে তা গড়াল ট্রাম্প পর্যন্ত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে সংঘর্ষ। ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও 'অপারেশন সিঁদুর' ঘিরে লোকসভায় রাজনৈতিক চাপানউতোর। তর্ক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুদ্ধবিরতি আর জাতীয় নিরাপত্তা।

রাহুলের অভিযোগ, ট্রাম্প অন্তত ২৯ বার দাবি করেছেন যে তিনিই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এই বিষয়ে ট্রাম্প যদি মিথ্যে হয়ে থাকেন, তবে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর তা স্পষ্ট করা উচিত যে, ট্রাম্প মিথ্যাবাদী। পাশাপাশি তিনি মোদিকে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, "যদি ইন্দিরা গান্ধীর মতো সাহস থাকে, তবে স্পষ্ট বলুন ট্রাম্প মিথ্যা বলছেন।"

 

আরও পড়ুন ১৫ বছরেই বিপর্যয়ের মুখে! নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ, বড়সড় সংস্কারে নামছে কর্তৃপক্ষ

 

এর উত্তরে, সরাসরি ট্রাম্পের নাম না নিলেও মোদি স্পষ্ট করেন, "দেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ নেই। আমরাই সিদ্ধান্ত নিই কখন কী করতে হবে।" মোদি আরও দাবি করেন, ভারতীয় সেনা মাত্র ২২ মিনিটে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি এবং এয়ার বেস গুলোকে "আইসিইউ-তে" পাঠিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "ভারত আর চুপ করে থাকেনা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়।"সেই সঙ্গে, তিনি জানান, মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও কথা হয়েছিল। যেখানে মোদি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, "যদি পাকিস্তান আক্রমণ করে, তবে তার মূল্য দিতে হবে।"

এরপর, রাহুল পাল্টা অভিযোগ তোলেন, সরকার তো ভারতীয় বায়ুসেনার হাত বেঁধে রেখেছিল। এই অপারেশন কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষা করার উপলক্ষ্য মাত্র। তিনি বলেন, "বায়ুসেনা ভুল করেনি, সরকার তাঁদের সময়মতো অনুমতি দেয়নি।"

অমিত শাহ কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, "২০০৫-২০১১ সালের মধ্যে ২৭টি বড় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। আর কংগ্রেস সরকার শুধু পাকিস্তানে ডসিয়ার পাঠাত।" তিনি আরও বলেন, "পাকিস্তান হচ্ছে কংগ্রেসের ভুলের ফল।"

অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদব অপারেশন সিন্দুরের কার্যকারিতা ও যুদ্ধের সময় রাফালে বিমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা দাবি করেন, সরকার প্রকৃত তথ্য আড়াল করছে এবং দায়িত্ব এড়াতে চাইছে।

সবশেষে বলা যেতে পারে, এই বিতর্ক শুধু মোদি-রাহুলের মধ্যেকার রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়। এই সংঘর্ষ প্রশ্ন তুলছে, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনীতি ও নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতার দিকে।

                                                                                                                                                                                                                                                                     -দিশা দাস

পরবর্তী খবর