মাত্র ১৫ বছরের মাথায় কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন। একের পর এক পিলারে ফাটল, কিছু পিলার আবার হেলে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গোটা স্টেশনটিকেই সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে পূর্ণ সংস্কারের পথে হাঁটছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের খবর, অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে নিউ গড়িয়া স্টেশনের দক্ষিণেশ্বরমুখী আপ প্ল্যাটফর্মের অন্তত চারটি পিলারে গভীর ফাটল দেখা যায়। শুধু তাই নয়, বসে যেতে শুরু করেছে স্টেশনের একাধিক অংশও। যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রো পরিষেবা ।
২৮ জুলাই দুপুর ১২:৪৫-এ আচমকা বন্ধ হয় মেট্রো চলাচল। এরপর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। জানা গিয়েছে, প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামোগত জায়গাতেও দেখা দিয়েছে দুর্বলতা। এই অবস্থায় বিপদের ঝুঁকি না নিয়ে স্টেশনটিকে পুরোপুরি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো রেল।
আরও পড়ুন ভূমিকম্পের পর সুনামি: রাশিয়া, জাপান ও আমেরিকায় সতর্কতা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে এক বছরের মতো সময় লাগতে পারে। আপাতত দক্ষিণেশ্বর থেকে ব্রীজি পর্যন্তই চলছে মেট্রো পরিষেবা। ফলে যাত্রীরা ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছেন, বিশেষত শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার ট্রেনযাত্রীরা, যারা নিয়মিত নিউ গড়িয়া হয়ে যাতায়াত করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১০ সালের মহালয়ার দিন যাত্রা শুরু করেছিল নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন। আর সেই স্টেশনেই মাত্র ১৫ বছরের মাথায় পরিকাঠামোগত এমন ভাঙন? যেখানে শহরের অনেক পুরনো স্টেশন ৩০–৪০ বছরেও সুস্থভাবে চলছে, সেখানে এত দ্রুত ক্ষয় তাতে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে নির্মাণের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ ঘিরে একাধিক প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই স্টেশনের গ্রুপ C ও D কর্মীদের অস্থায়ী বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একাধিক ইঞ্জিনিয়ারিং টিম কাজ শুরু করেছে পিলারগুলির অবস্থা যাচাই ও মেরামতিতে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
-রিয়া হালদার