হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি সরকারি কাগজের উপর…হঠাৎ এক নির্দেশে বাতিল হয়ে গেল বহু ওবিসি শংসাপত্র! আর এবার সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্ট জানাল এটা আশ্চর্যজনক!কি বলছে দেশের শীর্ষ আদালত? চমকে গেল সবাই
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন একটি ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির উপর কলকাতা হাই কোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। এবার সুপ্রিম কোর্ট সেই হাই কোর্টের নির্দেশের ওপরই স্থগিতাদেশ জারি করেছে। প্রধান বিচারপতি বিআর গগৈ প্রকাশ্যে বলেন “এটা অবাক করার মতো! হাই কোর্ট কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারল?” তিনি আরও বলেন, সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনের আছে তার জন্য আলাদা আইন দরকার হয় না। আদালত বলেছে, হাই কোর্টের রায় ‘প্রাথমিকভাবে ভুল’ বলেই মনে হচ্ছে। মামলাকারীরা চাইলে, বিষয়টি হাই কোর্টের অন্য বেঞ্চে পাঠানো যেতে পারে।
আরও পড়ুন বৃষ্টির জেরে শেষ স্টেশনেই ফাটল! নীল লাইনে বড়সড় ধাক্কা
গত ২০১০ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গে ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে বাম সরকার এবং তৃণমূল সরকার মিলে আরও ৭৭টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। হাই কোর্ট এই নতুন তালিকাকেই বাতিল করে দেয় এবং জানায় নতুন তালিকা তৈরি করতে হলে সামাজিক, আর্থিক ও পেশাগত সমীক্ষা করতে হবে। এই সমীক্ষার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার ১৪০টি নতুন জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় রাখে। এই তালিকা তৈরির দায়িত্বে ছিল অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ কমিশন। রাজ্য জানায়, তালিকাটি শুধু আর্থিক অনগ্রসরতা দেখে তৈরি, ধর্মভিত্তিক নয়। কিন্তু এই নতুন তালিকার বিরুদ্ধেই আবার মামলা হয় হাই কোর্টে।
এখন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্টই, তবে তার আগে হাই কোর্টের আগের রায় থেমে থাকুক।”সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে আশা ফিরে পেলেন বহু ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থী।
আর এখন প্রশ্ন একটাই“শেষ পর্যন্ত জিতবে কার যুক্তি? হাই কোর্ট, না সুপ্রিম কোর্ট?” “ভবিষ্যৎ গড়বে আইন, না রাজনীতি?”
-জ্যোতি সরকার