সর্বশেষ সংবাদ
ভক্তি থেকে বিষাদ—জলাভিষেকের রাতে অনীশ্বর মন্দিরে মৃত্যু যাত্রা

ভক্তি থেকে বিষাদ—জলাভিষেকের রাতে অনীশ্বর মন্দিরে মৃত্যু যাত্রা

হরিদ্বারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই  আরও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল উত্তরপ্রদেশের বরাবাঁকি জেলা। অনীশ্বর মহাদেবের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন দুই জন পুণ্যার্থী।আহত হয়েছেন অন্তত ২৯ জন।

রবিবার ছিল ছুটির দিন। সেই উপলক্ষে বহু ভক্ত জড়ো হয়েছিলেন বরাবাঁকির হায়দারগড় এলাকার অনীশ্বর শিব মন্দিরে। মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছিল জলাভিষেকের প্রস্তুতি। এই আচার অনুযায়ী, মহাদেবের মাথায় জল ঢালার মাধ্যমে পূজা করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস এই জলাভিষেক করলে পুণ্য লাভ হয়। তাই মধ্যরাত থেকেই মন্দির চত্বরে দেখা যায় বিরাট ভিড়। ভক্তি আর শ্রদ্ধার মধ্যে হঠাৎ ছেদ পড়ে।

রাত প্রায় ২টা নাগাদ আচমকা ঘটে যায় অঘটন। মন্দির চত্বরের উপরে থাকা বিদ্যুতের তারের উপর লাফিয়ে বেড়াচ্ছিল বাঁদরের দল। একপর্যায়ে ছিঁড়ে যায় সেই বিদ্যুতের তার। সেই তার পড়ে যায় মন্দিরের টিনের ছাউনিতে। তারপরেই কয়েকজন ভক্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার ঘটনাটি ঘটতেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। লেগে যায় হুড়োহুড়ি। ভক্তরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করেন। একজন আরেকজনের উপর পড়ে যান। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হন বহু মানুষ।

এই ভয়াবহ হুড়োহুড়িতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই জন পুণ্যার্থীর। আহত হন আরও ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত। আহতদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় হায়দারগড় ও ত্রিবেদিগঞ্জ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে। যাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল, তাঁদের পাঠানো হয় জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসা চলছে, অনেকেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

আরও পড়ুন ভারত, চিন এখন অতীত: ঘরোয়া উৎপাদনে আগ্রহী আমেরিকা! তবে কি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় পালাবদল?

জেলাশাসক জানিয়েছেন, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ বাঁদরের লাফালাফি। তার পরেই এই বিপর্যয় নেমে আসে মন্দির চত্বরে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও হরিদ্বারের মনসা দেবী মন্দিরে একই রকম গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আট জনের। আহত হন বহু মানুষ।

একটি পবিত্র আচার, একটি বিশ্বাসের উৎসব  পরিণত হল এক মর্মান্তিক ঘটনার মঞ্চে।অপরিকল্পিত ভিড়, অব্যবস্থাপনা আর নিরাপত্তার ঘাটতি যেন বারবার ডেকে আনছে প্রাণহানির ঘটনা। আজকের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আস্থা আর নিরাপত্তা দুইয়ের সমান গুরুত্ব থাকা দরকার। পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর এই ঘটনা যেন না ঘটে আর কোনও মন্দিরে, কোনও উৎসবে।

                                                                                                                                                                                       -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর