ম্যাঞ্চেস্টারে ইংল্যান্ডের মাটিতে কার্যত হেরে যাওয়া ম্যাচকে ড্র করে ভারতীয় দল প্রমাণ করে দিল—তারা কোনও পরিস্থিতিতে হাল ছাড়ে না। ম্যাচের চতুর্থ দিনে শুভমন গিলের সেঞ্চুরি (১০৩) ও কেএল রাহুলের ৯০ রানের ইনিংস ভারতের জন্য লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেয়। আর সেই ভিতের উপর মহাকাব্যিক কীর্তি গড়ে ফেলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর।
শেষ দিনে ভারতের উপর চাপ প্রবল। নতুন বল নিয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ। তখন ক্রিজে থাকা মানে মানসিক ও টেকনিক্যাল দুই দিক থেকেই একটানা যুদ্ধ। কিন্তু জাদেজা ও সুন্দরের ধৈর্য, একাগ্রতা আর পরিণত মানসিকতা ভারতীয় ক্রিকেটের সাহসী ইতিহাসে আরও এক পাতার সংযোজন করে।
দুজনেই প্রথমে শতরানের পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে দ্বিতীয় ইনিংসে লিডে নিয়ে যান। কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেট বাঁচানোর পাশাপাশি সুন্দরের স্কোয়ার কাট হোক বা জাদেজার ব্যাকফুট পাঞ্চ—দু’জনই ব্যাট হাতে উপহার দেন একের পর এক চোখ ধাঁধানো শট।
চা-বিরতির আগে দু’জনেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন—সুন্দর ৫৭ ও জাদেজা ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন। বিরতির পর সেই ইনিংস আরও দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যায়। জাদেজা ৯৫ থেকে বিশাল ছক্কা মেরে নিজের সেঞ্চুরি (১০৭*) সম্পূর্ণ করেন। কিছুক্ষণ পরেই ওয়াশিংটন সুন্দরও তার শতরান (১০১*) পূর্ণ করে যান।
ম্যাচের ফলাফল—ড্র। কিন্তু এই ড্র যেন জয়ের সমান। দু’জনের মধ্যে ২০৩ রানের রেকর্ড গড়া পার্টনারশিপ শুধু একটি ম্যাচ নয়, গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সাহস জোগায়। অনেকের কাছেই এই লড়াই সিডনিতে হনুমা বিহারি ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ঐতিহাসিক ইনিংসের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এই ম্যাচ শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়, ক্রীড়াজগতের লড়াই, মনোবল ও একাগ্রতার উদাহরণ হয়ে থাকবে চিরকাল।
রিয়া হালদার