ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা! অস্বাভাবিক উত্তেজনা থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে। এই মুহূর্তে সীমান্তে ভ্রমণ এড়াতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
সম্প্রতি কম্বোডিয়ায় একটি জরুরি ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দূতাবাস। সূত্রের খবর, হঠাৎ করেই এই দুই দেশের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। যদিও কেন এমন তার পিছনের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, পরিস্থিতি দেখে মনে করা হচ্ছে, এই দ্বন্দ্ব শুধু সীমান্ত নিয়ে নয়। এর পেছনে বড় কোনও রাজনৈতিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
কম্বোডিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শনিবার একটি জরুরি ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই সতর্কবার্তায় ভারতীয় নাগরিকদের কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত এলাকার দিকে ভ্রমণ না করার অনুরোধ করা হয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তে চরম অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতিও এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্র মারফত খবর, গত কয়েক মাস ধরেই ঐ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল, কিন্তু সম্প্রতি এক সেনা নিহত হওয়ার পরই তা সহিংস আকার ধারণ করে। তারপর থেকেই প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এখন পর্যন্ত এই লড়াইয়ে থাইল্যান্ডে ১৯ জন ও কম্বোডিয়ায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, ১,৩০,০০০-এর বেশি মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রদেশ যেমন উবন রাচাথানি, সুরিন, সিসাকেত, বুরিরাম, সা কেও, চান্থাবুরি ও ট্রাট এলাকায় না যাওয়ার জন্যও থাইল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিশেষভাবে সতর্ক করেছে।
অন্যদিকে, জানা যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিবাদের কারণ কিছু প্রাচীন হিন্দু মন্দির। বিশেষত, ১১শ শতাব্দীর প্রেহা ভিহেয়ার মন্দির ও তা মোয়ান থোম মন্দির নিয়ে। যদিও, ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালত প্রেহা ভিহেয়ার মন্দিরকে কম্বোডিয়ার বলে রায় দেয়। তবুও ২০০৮ সালে মন্দিরটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করার উদ্যোগ নতুন করে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে।
ভারতীয় দূতাবাস আরও জানিয়েছে, যদি কেউ বিপদে পড়েন, তবে দূতাবাসের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করতে পারেন। সব ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- দিশা দাস