আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চমকে দিয়ে অবসরের ঘোষণা দিলেন আন্দ্রে রাসেল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাত্র সাত মাস আগে এই সিদ্ধান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। ৩৭ বছর বয়সি অলরাউন্ডার জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামবেন তিনি।
২১ জুলাই (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) শুরু হতে চলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই রাসেলের নিজের ঘরের মাঠ, জামাইকার সাবাইনা পার্কে। ঠিক সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন তিনি।
একটি টেস্ট, ৫৬টি ওয়ানডে ও ৮৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে দীর্ঘ দেড় দশকের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে রাসেল দখল করেছেন ২ হাজারের বেশি রান ও ১০০-রও বেশি উইকেট। গত কয়েক বছর ধরে শুধুই টি-টোয়েন্টি খেললেও তার প্রভাব ও দক্ষতা ক্রিকেটবিশ্বে সমাদৃত। বিশেষ করে ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন রাসেল।
রাসেলের অবসরের খবর এল কয়েকদিনের আগেই, যখন নিকোলাস পুরান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন। একের পর এক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সরে দাঁড়ানোয় স্বভাবতই উদ্বিগ্ন ক্যারিবিয়ান বোর্ড।
তার উপরে, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে লজ্জাজনক হোয়াইটওয়াশ, আর তৃতীয় টেস্টে মাত্র ২৭ রানে অলআউট হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট রীতিমতো সংকটে। সেই কারণেই জরুরি বৈঠক ডেকেছে ক্রিকেট বোর্ড। সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস, ব্রায়ান লারা, ক্লাইভ লয়েড, ডেসমন্ড হেইনস, শিবনারায়ণ চন্দ্রপল ও ইয়ান ব্র্যাডশকেকে।
বোর্ড প্রেসিডেন্ট কিশোর শ্যালো জানিয়েছেন, "এই ফলাফল আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমরা বিশ্বজুড়ে গর্বের প্রতীক ছিলাম। আজ সেই গৌরব কোথায় হারিয়ে গিয়েছে। ক্রিকেটাররা ভেঙে পড়েছে। প্রত্যেকেরই দায় রয়েছে এই পরিস্থিতির জন্য।"
যত দ্রুত সম্ভব ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটকে পুনরুদ্ধার করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই তিন প্রজন্মের সেরা ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগাতে চাইছে বোর্ড।
আন্দ্রে রাসেলের অবসর শুধুই একটি যুগের অবসান নয়, এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে সেই অধ্যায় কেমন হবে, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা!
-রিয়া হালদার