কয়েকদিন আগেই দুর্গাপুরে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শিক্ষক দিবসের দিন সামনে এল আরও একটি অস্বস্তিকর ছবি। বারুইপুরে ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা গেল বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি।
আরও পড়ুন জীবনতলায় বিজেপি-আইএসএফ সংঘর্ষ, আহত প্রায় ৩০!
ঘটনাটি বারুইপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যাসাগর শিশু উদ্যানের। অভিযোগ, উদ্যানের ভিতরে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তিটি জায়গা থেকে সরিয়ে ঝোপের মধ্যে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সামান্য দূরেই রয়েছে বারুইপুর মহকুমা শাসকের দফতর এবং বারুইপুর পুরসভা। ফলে পুরসভা ও প্রশাসনিক দফতরের এত কাছে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
কে বা কারা মূর্তিটি সরাল, কখন এই ঘটনা ঘটেছে, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। ঘটনাস্থলে নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কি না, থাকলে তার ফুটেজ কোথায়, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। গোটা ঘটনায় বারুইপুর পুরসভার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার অধীনে থাকা একটি উদ্যানে এমন ঘটনা ঘটলেও নজরদারি বা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শিশুদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই পুরসভার উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল এই উদ্যান। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সেখানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তির উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্থানীয় কাউন্সিলর মোজাফফর আহমেদ। অথচ কয়েক বছর পর সেই মূর্তিই জায়গা হারিয়ে পড়ে রয়েছে ঝোপ-জঙ্গলে।
আর ঘটনাটির সময়টাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, আজ শিক্ষক দিবস। যে বিদ্যাসাগর শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, শিক্ষক দিবসের দিন তাঁর মূর্তির এমন পরিণতির ছবি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। এখন প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং মূর্তিটির যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
-স্পন্দন পাল