সর্বশেষ সংবাদ
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে বিলবোর্ড বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে! জট বাড়াল দমকলের নোটিস ও তাণ্ডব

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে বিলবোর্ড বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে! জট বাড়াল দমকলের নোটিস ও তাণ্ডব

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের বাইরে থেকে দলীয় বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছল। কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করায় বিচার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে 'কালীঘাট শিবির'।

 

আরও পড়ুন ঋতব্রতর বিরুদ্ধে মোক্ষম চালে কুণালের পাশে এবার অমিত শাহ! কেন্দ্রীয় নির্দেশকে সাধুবাদ জানিয়ে কী নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

 

এর আগে বিলবোর্ডটি আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিল তৃণমূল। তবে মামলার শুনানিতে ভবনের মালিক আদালতকে জানান, তাঁর কোনও অনুমতি না নিয়েই ওই বিলবোর্ড ঝোলানো হয়েছিল। সব পক্ষ শোনার পর বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, বিলবোর্ডটি যেহেতু ইতিমধ্যেই খুলে ফেলা হয়েছে, তাই এই মুহূর্তে তা পুনর্বহালের অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এখন তা টাঙানোর নির্দেশ দিলে মূল বিচার শুরুর আগেই তা চূড়ান্ত রায়ের শামিল হবে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পুরসভা ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিষয়ে পর্যাপ্ত নথি পেশ করা হয়নি বলেও জানায় আদালত। হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর শীর্ষ আদালতের পথ ধরেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কয়েক দিন আগে, যখন পুরসভার আধিকারিকেরা জানান যে ওই বিলবোর্ডটি বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল। সেটিকে সরানোর সময়েই পুরকর্মীদের সঙ্গে অভিষেকের অনুগামীদের প্রবল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিলবোর্ডটি খুলে নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মীরা সেখানে নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেন। তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে চরম তড়িঘড়ি ও বেআইনি ভাবে ওই বিলবোর্ডটি সরানো হয়েছিল।

আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কার্যালয়কে ঘিরে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে দমকল বিভাগ। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় বড়সড় খামতির অভিযোগ তুলে ভবনের বেসমেন্ট সহ সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সপ্তম ও অষ্টম তলাতেই রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল দফতর। দমকল সূত্রের খবর, বহুতলটির 'ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট'-এর মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, যা নির্ধারিত সময়ে পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। বৈধ শংসাপত্র ছাড়া বিপজ্জনক ভাবে এই অংশগুলি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেই জানায় দমকল।

অন্য দিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের এই কার্যালয়ে সম্প্রতি তাণ্ডবের ঘটনাও ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে একদল দুষ্কৃতী ওই অফিসে হামলা চালায় ও সেখানে থাকা কর্মীদের মারধর করে বলে অভিযোগ তোলা হয়। তৃণমূলের তরফে এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তোলা হলেও, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। সব মিলিয়ে বিলবোর্ডের আইনি জট, দমকলের নোটিস ও দুষ্কৃতী তাণ্ডবের জেরে ক্যামাক স্ট্রিটকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন চূড়ান্ত।

                                                                                                                                         -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর