মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার এক বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ টাউনে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপুজো সম্পন্ন হলো। এই বিশেষ অনুষ্ঠান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এবার রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রকে আধুনিক প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের সূচনা করা হয়।
আরও পড়ুন শ্রীনগরে নামতেই দুর্ঘটনা, VDGS-এ ধাক্কা ইন্ডিগোর বিমানের
নিউ টাউনের ইকো পার্কের কাছে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বসেছিল চাঁদের হাট। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রঞ্জিত মল্লিক, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা। সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং এবং তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গঠিত উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং মিঠুন চক্রবর্তী সহ-পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে পরিচালক সন্দীপ রায়কে এবং কার্যকরী সভাপতি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন।জানা গিয়েছে, আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা খরচে তৈরি হতে চলা এই ফিল্ম সেন্টারটি মূলত তিনটি অংশে ভাগ করা থাকবে। প্রথম অংশে গড়ে উঠবে ৭০০ থেকে ৭৫০ আসনের দুটি আধুনিক সিনেমা হল, প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট ও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। দ্বিতীয় অংশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য থাকবে ১০০০ আসনের একটি অডিটোরিয়াম এবং মনোরম ওপেন এয়ার থিয়েটার। তৃতীয় অংশটি হবে আধুনিক প্রযুক্তির কেন্দ্র, যেখানে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (VFX), গেমিং, কমিকস এবং সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশনের অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি ও স্টুডিও গড়ে তোলা হবে। এর ফলে স্থানীয় তরুণ প্রতিভারা যেমন নতুন কাজের সুযোগ পাবেন, তেমনই প্রযোজকরাও কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলা চলচ্চিত্রের যে কোনও উন্নয়ন ও পরিকাঠামো তৈরির জন্য রাজ্য সরকার পাশে রয়েছে। প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধন করে হলেও শিল্পীদের সুবিধার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মহানায়কের এই জন্মশতবর্ষ উদযাপন এমনভাবে পরিচালিত হবে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও বহু বছর ধরে তা মনে রাখে। অন্যদিকে, মিঠুন চক্রবর্তী বাংলায় শুটিং হওয়া ছবির জন্য ৩০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকির যে দাবি তুলেছিলেন, সরকার সেই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তি আর চলচ্চিত্র শিল্পের মেলবন্ধনে এই নতুন ফিল্ম সেন্টার বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে উঠতে চলেছে। বিশ্বমানের ভিএফএক্স ও স্টুডিও তৈরি হলে বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন জোয়ার আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল। তবে রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীর এই নতুন ভূমিকা টলিউডের বাস্তব চিত্র এবং উন্নয়নকে কতটা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়,এখন সেটাই দেখার বিষয়।
জ্যোতি সরকার