কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে রাতের অন্ধকারে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুঠপাটের অভিযোগ উঠল। ভোরে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের এই হামলার ঘটনায় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ধৃতদের পূর্বতন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ঘটনার তদন্তে নয়া মাত্রা যোগ হয়েছে।
আরও পড়ুন এনসিপিআই বিতর্ক: তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে আরও ৩ সপ্তাহ সময় দিলেন স্পিকার
এ দিন সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সমাজমাধ্যমে (এক্স হ্যান্ডেল) পর পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, আজ ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ সশস্ত্র অবস্থায় একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে জোর করে ঢুকে পড়ে। কর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অফিসের আসবাবপত্র এবং বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ভেঙে গোটা অফিস তছনছ করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদের কথায়, গত এক মাসের মধ্যে তাঁর আমতলা এবং ক্যামাক স্ট্রিট, এই দু’টি অফিসেই এমন হামলা হল। একে ‘ডাবল ইঞ্জিন কায়দায় বিজেপির সুশাসন’ বলে কটাক্ষ করে তিনি এর নেপথ্যে গেরুয়া শিবিরের দিকেই আঙুল তুলেছেন।
ঘটনার সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রীতিমতো তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় দলের কর্মী ও আইনজীবীরা বারবার ফোন এবং ইমেল করলেও প্রায় দু’ঘণ্টা পুলিশের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি। খোদ কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটলে রাজ্যে আইনের শাসন বলে আর কী অবশিষ্ট থাকে, সেই প্রশ্ন তুলে পুলিশের জবাবদিহি চেয়েছেন তিনি। অভিষেক লিখেছেন, পুলিশ এবং দুষ্কৃতীদের মনে আইন বা বিচারব্যবস্থার কোনও ভয় নেই। এই ঘটনাও যদি বিচারব্যবস্থার বিবেককে না নাড়িয়ে দেয়, তবে আর কীসে কাজ হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে হামলার নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, অভিষেকের দফতরের তরফে ইমেল মারফত অভিযোগ পাওয়ার পরেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। ভাঙচুর, বেআইনি অনুপ্রবেশ ও চুরির ধারায় রুজু হওয়া মামলায় গ্রেফতার করা হয় ছ’জনকে। পুলিশ সূত্রের খবর, সিসিটিভি ফুটেজে কয়েক জনকে অফিস থেকে মনিটর-সহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে সিঁড়িতে রেখে চলে যেতে দেখা গিয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পুলিশের একটি অংশের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধৃত এই ছ’জনের সঙ্গেই তৃণমূলের যোগসূত্র ছিল। এদিকে তৃণমূল সাংসদের আনা বিজেপির দিকে আক্রমণের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
-অঙ্কিতা পাল