ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। সেই ঘটনার সূত্র ধরে কলকাতা পুলিশের তলবে মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। থানার বাইরে যখন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ও স্লোগানে এলাকা উত্তাল, তখন থানার ভিতরে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন পুরভোটের মুখে ইভিএম জট, ২৬টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি নিয়ে হাইকোর্টে রাজ্য নির্বাচন কমিশন
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার বিকেলে, যখন পুরসভা ও পুলিশের একটি দল ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের পার্টি অফিসের বিলবোর্ড সরাতে যায়। সেই সময় সরকারি কাজে বাধা ও অন্যান্য জামিন-অযোগ্য ধারায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই নোটিস পাঠিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঙ্গলবার থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এদিন দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ তিনি একাই গাড়িতে করে থানায় পৌঁছান। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। অভিষেক স্পষ্ট দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের সঙ্গে পেরে না উঠে পুলিশ-প্রশাসনকে হাতিয়ার করে দলের নেতা-কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখার কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি জানান, একটি সামান্য বিলবোর্ডের বিষয়কে কেন্দ্র করে সারাদিন ধরে সময় নষ্ট করা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রমাণ। একইভাবে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ পাঠিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে দমিয়ে রাখার এই অপচেষ্টা মানুষ কখনো মেনে নেবে না এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এভাবে প্রতিদিন নেতাদের হেনস্থা করা বন্ধ হওয়া দরকার।
ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও শাসক বিজেপির সংঘাত এখন এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। একদিকে পুলিশি হেনস্থার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতৃত্ব আদালতের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল, অন্যদিকে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছে বিজেপি সরকার। আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক ময়দানে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
-জ্যোতি সরকার