সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মীয় উপাসনার আড়ালেই কি চলছে ক্ষমতার রাজনীতি? এবার রামমন্দির ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে মোদীর ন্যারেটিভ

ধর্মীয় উপাসনার আড়ালেই কি চলছে ক্ষমতার রাজনীতি? এবার রামমন্দির ইস্যুতে প্রশ্নের মুখে মোদীর ন্যারেটিভ

অযোধ্যার রাম মন্দির এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যে আবদ্ধ নেই। জাতীয় রাজনীতির অন্দরে এটি নিয়ে যেমন চর্চা চলছে, তেমনই ধর্মীয় ও সনাতন পরম্পরার দিক থেকেও বিষয়টি নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

একদিকে যেমন একে দেখা হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ভাবাবেগের পরিণতি হিসেবে, অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ব্লু-প্রিন্টেরও এটি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

 

আরও পড়ুন   রামপুরহাটে মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, চাকরি বাতিল ও পারিবারিক টানাপড়েনের জেরে চরম পদক্ষেপের অনুমান

 

ভারতের রাজনীতিতে ধর্ম ও জনমত সবসময়ই একে অপরের হাত ধরে চলেছে। তবে রাম মন্দির ইস্যুটি যেভাবে সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা কার্যত নজিরবিহীন। এই পুরো বিষয়টিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সাধু-সন্ত এবং সনাতন ধর্মের আচার-আচরণ নিয়ে চর্চাকারী বিশ্লেষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত।

তাঁদের অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টিকে শুধুই একটি উপাসনালয় নির্মাণের গণ্ডিতে আটকে রাখলে পুরো চিত্রটি ধরা সম্ভব নয়। এর পেছনে কাজ করছে সুনির্দিষ্ট জনমানস তৈরির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। বিশেষ করে উত্তর ভারতের রাজনীতি থেকে শুরু করে গোটা দেশের সাধারণ ভোটারদের মনস্তত্ত্বে এই ইস্যুটি যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে এই পুরো প্রক্রিয়ায় যেভাবে সামনে রাখা হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে মন্দির আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান রূপ, প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নানা মেরুকরণ।

এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি স্বামী মনমোহন মিশ্র তাঁর বক্তব্যে রাম মন্দির সংলগ্ন সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকাকে এক কড়া বিশ্লেষণের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট মত, ধর্মীয় আবেগ এবং শাস্ত্রীয় মর্যাদাকে রাজনৈতিক প্রচারের স্বার্থে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সনাতন পরম্পরার মূল ভাবনার সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি এও উল্লেখ করেন, উপাসনালয়ের নির্মাণ ও তার প্রতি ভক্তি এক বিষয়, কিন্তু তাকে সামনে রেখে ব্যক্তি বা দলীয় ভাবমূর্তি গড়ে তোলার যে রাজনীতি চলছে, তা সাধারণ মানুষের সচেতনভাবে বোঝা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গেও তিনি তাঁর বক্তব্যে যুক্তিভিত্তিক প্রশ্ন তুলেছেন। স্বামীজি মনে করিয়ে দিয়েছেন- উন্নয়ন, শাসনব্যবস্থা এবং প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার যে সংজ্ঞা, তা শুধুই জমকালো আয়োজন বা প্রতীকী উদযাপনে আটকে থাকতে পারে না। রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ধর্মের অতি-সরলীকরণ সমাজ ও ধর্মীয় চেতনা উভয়ের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে বলেই তাঁর অভিমত।

অতএব; এই প্রেক্ষাপট থেকে বলাই যায়, রাম মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বর্তমান রাজনৈতিক ন্যারেটিভ এবার ধর্মীয় পরিসর থেকেই এক জোরালো নৈতিক প্রশ্নের মুখে। শাসক শিবিরের প্রচার আর সমালোচকদের শাস্ত্রীয় যুক্তির এই টানাপোড়েন আগামী দিনে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক সমীকরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে বাধ্য, তা বলাই বাহুল্য।

                                                                              -দিশা দাস

পরবর্তী খবর