শহরের একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পর এবার নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে তারাপীঠ এবং নিউ মার্কেটের হোটেলে বিধ্বংসী আগুনের পর রাজ্যজুড়ে বহুতল ভবনগুলিতে জোরকদমে চলছে ফায়ার অডিট।
সেই রুটিন অডিটের অঙ্গ হিসেবেই সোমবার ভরদুপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে আচমকা হাজির হলেন দমকল এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ বাহিনী। রাজনৈতিক তরজার উত্তাপের মধ্যেই এই ঝটিকা পরিদর্শন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
আরও পড়ুন ১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে তিলোত্তমা: অভ্যাস না বদলালে কাটবে পকেট, হতে পারে জরিমানা!
এদিন দুপুরে দমকলের যৌথ দল পৌঁছতেই শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কার্যালয়টির চারপাশ ঘিরে ফেলে। ভবনের মূল ফটক দিয়ে ঢোকার পথেই আধিকারিকদের নজরে আসে একটি টিনের শেড। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থেমে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে আধিকারিকরা ভবনের বেসমেন্ট থেকে শুরু করে একদম ছাদ পর্যন্ত প্রতিটি তলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময়ে অগ্নিনির্বাপক অ্যালার্মের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করে দেখা হয়। ঠিক কী কারণে এই আচমকা পরিদর্শন, এই প্রশ্ন করা হলে অ্যাডিশনাল ফায়ার সেফটি অফিসার সৌরভ বাগ জানান, শহরের ছোট-বড় সব বহুতলেই নিরাপত্তা পর্যালোচনার কাজ চলছে, এটিও তার অংশমাত্র।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর দমকল সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, সাত তলা এই ভবনের প্রথম থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা মোটের ওপর ঠিকঠাক থাকলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে ওপরের দুটি তলায়। ছয় এবং সাত তলার ক্ষেত্রে ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার, ওয়াটার রিজার্ভার এবং ফায়ার অ্যালার্ম সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জরুরি ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছিল না। এর পাশাপাশি ভবনের বাইরের টিনের শেডটি দমকলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই ফায়ার অডিটের নেপথ্যে অন্য মাত্রা যোগ করেছে সাম্প্রতিক আইনি টানাপোড়েন। উল্লেখ্য, ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে 'বেআইনি' বিলবোর্ড সরানো সংক্রান্ত একটি ঘটনায় পুলিশ সম্প্রতি অভিষেকের নামে নোটিস জারি করে। কিন্তু ওই এফআইআর বা নোটিসের কপি কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে রবিবার রাতে পুলিশকে পালটা ইমেল পাঠান তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী অর্ক নাগ। যদিও পুলিশের তরফে পরে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই যথাসময়ে পোর্টালে আপলোড করা রাখা হয়েছিল।
অন্য দিকে, এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শেক্সপিয়ার সরণি থানায় সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য অভিষেককে তলব করা হয়েছিল। একই কাণ্ডে ডাক পড়েছিল তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনেরও। সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ তাঁকে থানায় যেতে বলা হলেও, নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে ইমেল পাঠান তিনি। এরপরই পুলিশের তরফে তাঁর বাসভবনে দ্বিতীয় নোটিস পাঠানো হয়। আইনি লড়াই এবং ফায়ার সেফটি অডিট,দুই ঘটনার সমাপতনে বর্তমানে চরম সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
-অঙ্কিতা পাল