তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা বন্ধ করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করল হেস্টিংস থানার পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরই পুলিশের এই পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
গত শুক্রবার কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সমাবেশের ডাক দেয় তৃণমূল। আদালতের নির্দেশ ছিল, যান চলাচল সচল রাখতে রাস্তার একটি লেন সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে পৌঁছনোর পরেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসায় দুটি লেনই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং মধ্য কলকাতায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশের দাবি, আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পরেও সভা চালানো হয় এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর জেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।
আরও পড়ুন ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে নয়া মোড়: অভিষেকের অফিসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি বাড়ির মালিকের
এই বিশৃঙ্খলার তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইনের ওপরে কেউ নন। শুভেন্দু বলেন, হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাস্তার একাংশ ছেড়ে সভা করা হয়নি, বরং রাস্তা আটকে জনজীবন স্তব্ধ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই তিনি অবিলম্বে পুলিশকে এফআইআর দায়ের করার এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কড়া নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে তৃণমূল সুপ্রিমোকে আক্রমণ করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতার অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দিলীপ বলেন, তৃণমূল নেত্রী কোনোদিনই আদালতের রায়কে তোয়াক্কা করেননি। তাঁর কথায়, রায় নিজের পক্ষে এলে ভালো, আর বিপক্ষে গেলেই আদালতকে অস্বীকার করার প্রবণতা রয়েছে তৃণমূলের। পাশাপাশি ছাত্র পরিষদের মঞ্চ থেকে অতীত শিক্ষা দুর্নীতি এবং কলেজে ভরতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেও সুর চড়ান তিনি।
তৃণমূল শিবিরের দাবি, অতিরিক্ত জনসমাগমের আবেগের কারণে সাময়িক সমস্যা হলেও স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মাইক হাতে দাঁড়িয়ে আটকে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স পার করিয়েছেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপি সরকারে আসার পর থেকে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক অবস্থান বজায় রাখছে। ক্যামাক স্ট্রিট বিতর্ক থেকে শুরু করে এই এফআইআর, আইনি নির্দেশিকাকে সামনে রেখে বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখার এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ক্যাথিড্রাল রোডের রাজনৈতিক সমাবেশ এখন থানা ছাড়িয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে গড়ানোর মুখে। আইনভঙ্গের অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হওয়া এই এফআইআর এবং শাসক বিজেপির কড়া অবস্থান আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির সংঘাতকে আরও কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।
-জ্যোতি সরকার