কলকাতার ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। সম্প্রতি অফিসের ছাদে থাকা বিতর্কিত হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের তুমুল অশান্তি বাধে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ওই অফিসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর বেআইনিভাবে দখল করে রাখার মতো মারাত্মক অভিযোগ আনল বাড়ির মালিকপক্ষ।
মালিকপক্ষের দাবি, ২০২০ সালে বাড়ির মালিক রমা দেবী গোয়েঙ্কার সঙ্গে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অফিস ভাড়ার একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। অভিযোগ, চুক্তির একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে বিল্ডিংয়ের দু’টি ফ্লোর দখল করে রাখা হয়েছে। এমনকি কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (CC) ছাড়াই জোর করে জায়গাটি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মালিককে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই ছাদে বিশাল লোহার কাঠামোর বিলবোর্ড বসানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, জারি হলুদ সতর্কতা
মালিকপক্ষের আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই দখলদারির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিসের পর উপযুক্ত পদক্ষেপ না করা হলে তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হবেন এবং প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাবেন। এদিকে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ছাদের বিপজ্জনক হোর্ডিং মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই সরানো হয়েছে এবং এখন যে জমি ও অফিস দখলের অভিযোগ উঠছে, তা প্রশাসন সম্পূর্ণ খতিয়ে দেখবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার কর্মীরা গ্যাস কাটার নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের ছাদ থেকে তৃণমূলের হোর্ডিং কাটতে গেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির জেরে ইতিমধে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরসভার অভিযানের বিরুদ্ধে তৃণমূল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত কোনো অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয়নি। হোর্ডিং বিতর্কের আইনি জটিলতার মাঝেই এবার অফিস দখলের নতুন অভিযোগ তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।
-জ্যোতি সরকার