উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই দেশজুড়ে চিনির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কালোবাজারি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক। বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মজুতদারি আটকাতে চিনির মজুত রাখার সর্বোচ্চ সীমায় নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বড় ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি এখন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের প্রয়োজনের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবে না।
এই নতুন নিয়মটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। মূলত যেসব প্রতিষ্ঠান বা বড় ক্রেতা মাসে গড়ে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহার করে—যেমন মিষ্টি প্রস্তুতকারক, বিস্কুট কোম্পানি, কনফেকশনারি, কোমল পানীয় এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা,তাদের জন্যই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের অধীনস্থ সংস্থাগুলিকে এই মজুতসীমার বাইরে রাখা হয়েছে।
পূর্বে ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিনের স্টক রাখার অনুমতি থাকলেও বাজারে চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গত এক মাসে দেশে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন খুচরো বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে আখের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎসবের মরশুমে জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভ্যন্তরীণ বাজারে নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনে বিদেশ থেকে সীমিত পরিসরে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির বিষয়টিও কেন্দ্র বিবেচনা করছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত উৎসবের দিনগুলিতে কৃত্রিম সংকট রোধ এবং মধ্যবিত্তের বাজেটে স্বস্তি ফেরাতে এই নতুন মজুতনীতি কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়, সেটাই এখন দেখার।
-জ্যোতি সরকার