সর্বশেষ সংবাদ
মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়েই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা! আত্মসমর্পণ করবেন আদালতে

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়েই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা! আত্মসমর্পণ করবেন আদালতে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে আবার এক নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় ঝুললেও, সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে সশরীরে দেশে ফেরার এক অবিশ্বাস্য ও মেগা ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ডিসেম্বর মাসেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’কে দেওয়া এক ঘণ্টার এক এক্সক্লুসিভ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক তথ্য নিজেই খোলসা করেছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। ২০২৪ সালের অগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর, এই প্রথম নিজের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানালেন তিনি।

 

আরও পড়ুন কলকাতার বুকে ঐতিহাসিক সাফল্য! কংক্রিটের দেওয়াল ফুঁড়ে ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছাল মেট্রোর ‘দুর্গা’

 

শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জেল খাটতে বা মৃত্যুর মুখোমুখি হতে তাঁর বিন্দুমাত্র ভয় নেই। সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, “ওরা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চলছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে এবং তাঁদের রক্ত মিশে আছে।”

শুধু নিজেই নন, শেখ হাসিনার এই ‘মেগা রিটার্ন প্ল্যানে’ তাঁর সঙ্গে নির্বাসনে থাকা আওয়ামি লিগের একাধিক শীর্ষ নেতাও (যাঁদের মধ্যে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও থাকতে পারেন) বাংলাদেশে ফিরে একযোগে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানা গেছে। আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায়কে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং 'প্রহসন' বলে দাবি করে হাসিনা জানান, তিনি আইনি পথেই এই লড়াই লড়বেন। আদালতে আত্মসমর্পণ করার মূল উদ্দেশ্যই হলো এই মামলার পেছনের আসল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মানুষের সামনে আনা।

বর্তমানে ভারতে অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করলেও ওপার বাংলার রাজনীতিতে যে তিনি এখনও ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সি এই নেত্রী। তিনি দাবি করেছেন, ভারতে বসেই তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠনের কাজ জোরকদমে চালাচ্ছেন। ঢাকা ও নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে হাসিনা বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরত নেওয়ার জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিচ্ছে। কিন্তু আমাকে পাঠানোর প্রয়োজন নেই, আমি নিজেই ফিরে যাব।”

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে ডিসেম্বরের শীতে শেখ হাসিনার এই বাংলাদেশে ফেরার মরণকামড় দেওয়ার ঘোষণা ওপার বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সাইক্লোন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ যখন কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছিল, তখন হাসিনার এই ঘোষণা বর্তমান সরকারকে নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে। ভারত সরকারও এই প্রত্যর্পণের আবেদনটি আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখছে। শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত ঢাকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন কোনো অশান্তির আগুন জ্বালাবে, নাকি আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন অক্সিজেন জোগাবে, এখন সেটাই দেখার।

                                                                                                                                                      -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর