সর্বশেষ সংবাদ
জলমগ্ন তিলোত্তমা! ৬ জেলায় ভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা, কবে থামবে এই তাণ্ডব?

জলমগ্ন তিলোত্তমা! ৬ জেলায় ভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা, কবে থামবে এই তাণ্ডব?

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে সপ্তাহের শেষেই অঝোরে নামল বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণে ভিজছে তিলোত্তমা। সকাল পেরিয়ে দুপুর হয়ে গেলেও আকাশের মেঘলা মুখ কাটার নাম নেই, বরং সময়ের সাথে সাথে কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই এই জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, আগামী আরও কয়েক দিন রাজ্যজুড়ে বহাল থাকবে এই দুর্যোগ।

 

আরও পড়ুন ‘আসল বনাম নকল’ লড়াইয়ে এবার ‘৯১ পাতার বোমা’! কুণালের পুরনো চিঠি নিয়ে মমতাকে ক্যুরিয়ার পাঠানোর হুঁশিয়ারি ঋতব্রতর

 

টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর কলকাতা এবং শহরতলির বিস্তীর্ণ নিচু এলাকাগুলি ইতিমধ্যেই এক হাঁটু জলের তলায় চলে গিয়েছে। সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভিআইপি রোডের চিনার পার্ক ও কৈখালি এলাকায়। চিনার পার্কের ৪৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ড চত্বর সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের চাকা পর্যন্ত জলের নিচে চলে গিয়েছে। শুক্রবার সকালে জল পেরিয়ে যাওয়ার সময় একটি চারচাকার গাড়ি মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে, যা পরে ক্রেন এনে সরাতে হয়। এর জেরে ভিআইপি রোডে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দমদম, বরাহনগর, ব্যারাকপুর এবং সোদপুরের মতো এলাকাগুলিতে জল জমে যাওয়ায় অফিসযাত্রী এবং স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন রাস্তা ডুবে যাওয়ায় বিমানযাত্রীদের পৌঁছাতে কালঘাম ছুটছে এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বিমান পরিষেবাও আংশিক ব্যাহত হয়েছে।

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে একটি বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপরেও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই জোড়া ফলার টানেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। এর জেরে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় আগামী সোমবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের ছয়টি জেলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টিপাতের হলুদ ও কমলা অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতেও প্রকৃতির তাণ্ডব জারি থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর যেমন মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে, তেমনই পাহাড়ি রাস্তায় ধস নামার এক প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার কারণে সমুদ্র এখন যথেষ্ট উত্তাল রয়েছে। তাই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মৎস্যজীবীদের শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

লাগাতার বৃষ্টির জেরে কলকাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই নিচে নেমে গিয়েছে, যা গরমে স্বস্তি দিলেও জলজমার দুর্ভোগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলা সহ মধ্য কলকাতার একাধিক অংশে দুপুরের দিকে বৃষ্টির দাপট আরও বেড়েছে। কলকাতার পুরসভা এবং ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও জমা জল দ্রুত নামাতে কোমর বেঁধে মাঠে নামলেও, আবহাওয়া দফতরের আগামী কয়েক দিনের এই মেগা অ্যালার্টের জেরে গোটা রাজ্যবাসী এখন এক চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

                                                                                                                                    -জ্যোতি সরকার

                                                            

পরবর্তী খবর