সর্বশেষ সংবাদ
‘আসল বনাম নকল’ লড়াইয়ে এবার ‘৯১ পাতার বোমা’! কুণালের পুরনো চিঠি নিয়ে মমতাকে ক্যুরিয়ার পাঠানোর হুঁশিয়ারি ঋতব্রতর

‘আসল বনাম নকল’ লড়াইয়ে এবার ‘৯১ পাতার বোমা’! কুণালের পুরনো চিঠি নিয়ে মমতাকে ক্যুরিয়ার পাঠানোর হুঁশিয়ারি ঋতব্রতর

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দলে‘আসল’ আর ‘নকল’ বেছে নেওয়ার যুদ্ধ এবার এক নজিরবিহীন বাঁক নিল। এতদিনের রাজনৈতিক চাপানউতোর ছাপিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে আকস্মিক প্রবেশ ঘটল ‘বেইমান’ ও ‘গদ্দার’ শব্দের। আর এই স্নায়ুযুদ্ধের আবহেই ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘ এক যুগ পুরনো এক ‘জেলবন্দি’ ইতিহাসের কঙ্কাল টেনে বের করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

লক্ষ্য আর কেউ নন, বেলেঘাটার বিধায়ক তথা একসময়ের তারকা সাংসদ কুণাল ঘোষ। শনিবার এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠক থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, চিটফান্ড মামলায় যখন কুণাল ঘোষ জেলবন্দি ছিলেন, তখন তাঁর লেখা একটি বিস্ফোরক চিঠিই হতে চলেছে আগামী দিনের রাজনীতির প্রধান মোড় ঘোরানো দলিল।

সরাসরি নাম না করে কুণাল ঘোষকে ‘কালীঘাট তৃণমূলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এক যুগ আগে জেলবন্দি থাকা অবস্থায় দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিবিআই (CBI) ডিরেক্টরকে একটি ৯১ পাতার সুদীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন ওই তৃণমূল সাংসদ। ঋতব্রতের দাবি, ওই চিঠির পরতে পরতে তৃণমূল দলটিকে সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সলতে পাকানো হয়েছিল।

সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “চিঠিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিটফান্ডের টাকার ‘আসল উপভোক্তা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন স্বয়ং কুণাল।” শুধু তাই নয়, ওই চিঠিতে উদ্বৃত্ত ৩০ কোটি টাকা কোথায় এবং কার কাছে যাবে, তারও রোমহর্ষক বিবরণ রয়েছে বলে দাবি তাঁর। এমনকি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ক্যুরিয়ার মারফত মমতার ঠিকানায় ওই ৯১ পাতার চিঠি পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

পাল্টা দিতে দেরি করেননি বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। ঋতব্রতের এই আক্রমণকে কার্যত নস্যি উড়িয়ে দিয়ে কুণাল দাবি করেন, সেই কঠিন সময়ে আসলে দলেরই কয়েকজন শীর্ষনেতা তাঁর কাঁধে বন্দুক রেখেছিলেন। ঋতব্রতকে সপাটে খোঁচা দিয়ে কুণাল বলেন, “শয়নে, স্বপনে, জাগরণে ঋতব্রত যে আমার নাম মনে রাখছে, এটা দেখে বেশ ভালো লাগছে। ওটা তো আমার বিখ্যাত চিঠি, ভীষণ কঠিন সময়ের চিঠি।” তিনি আরও যোগ করেন, “নেত্রীর ওই চিঠি মুখস্থ রয়েছে। আজ অন্তত সবাই বুঝল তো যে কুণাল ঘোষই দলের প্রথম ‘হুইসল ব্লোয়ার’ ছিলেন? এখন সেই চিঠিকে মান্যতা দিতে গেলে তোমরা কীসের বিপ্লবী?”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির সূত্রপাত বুধবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বার্তাকে কেন্দ্র করে। বিক্ষুব্ধ বা বিদ্রোহী শিবিরের উদ্দেশ্যে মমতা কড়া ভাষায় বলেছিলেন, “বেইমানদের কথায় বেইমানি করবেন না। এখনও সময় আছে ঘরে ফিরে আসুন। কর্মীদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখুন।”মমতার সেই ‘বেইমান’ তকমা গায়ে লেগেই কি তবে পাল্টা ‘আসল বেইমান’ খোঁজার এই মরিয়া চেষ্টা? 

আপাতত ১৫ দিনের ডেডলাইন দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। ক্যুরিয়ার মারফত ৯১ পাতার সেই পুরনো চিঠির কপি যখন কালীঘাটের অন্দরে পৌঁছাবে, তখন ‘আসল বনাম নকল’ তৃণমূলের এই গৃহযুদ্ধ কোন নতুন সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।

                                       - অঙ্কিতা পাল 

পরবর্তী খবর