সর্বশেষ সংবাদ
মমতার কামব্যাক হাইকোর্টের এক রায়ে! মুখ থুবড়ে পড়ল ঋতব্রত গোষ্ঠী?

মমতার কামব্যাক হাইকোর্টের এক রায়ে! মুখ থুবড়ে পড়ল ঋতব্রত গোষ্ঠী?

মুখ থুবড়ে পড়ল বিদ্রোহী ঋতব্রত গোষ্ঠী! কলকাতা হাইকোর্টে এক ঐতিহাসিক এবং বিশাল বড় জয় পেল কালীঘাট তৃণমূল, অর্থাৎ মমতা পন্থী তৃণমূল শিবির! অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের যে মাস্টারপ্ল্যান কষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল, আজ হাইকোর্টের এক রায়ে তা এক লহমায় চুরমার হয়ে গেল।

কালীঘাটের অ্যাকাউন্ট নিয়ে এক অভূতপূর্ব স্বস্তির নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। যারা ভেবেছিলেন মমতা পন্থীদের পথ আটকে দেওয়া যাবে, বিচারপতির কড়া কড়া প্রশ্নে আজ এজলাসেই কার্যত থমকে গেলেন তারা। 

তৃণমূলের ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পুলিশের নির্দেশে সম্পূর্ণ ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিল। আর তা নিয়েই মামলা চলছিল কলকাতা হাইকোর্টে। আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে ছিল এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানি। আর শুনানির শুরু থেকেই একের পর এক কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় বিদ্রোহী অর্থাৎ ঋতব্রত তৃণমূলকে। এদিন আদালতে বিদ্রোহী অর্থাৎ ঋতব্রত তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিশ্বনাথ দাস এবং কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মনু সিংভি। আইনজীবী মনু সিংভি আদালতে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোনো উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়া কীভাবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যায়? আর যে বিধায়করা দল থেকে ২৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর সন্দেহ প্রকাশ করছেন, তাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দেন, যারা আজ অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা তো এই অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকা নিয়ে নির্বাচনে লড়েছিলেন এবং জিতেছিলেন! তাহলে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর হঠাৎ এই বিপুল অভিযোগ কেন? ৪ মে কিংবা ১৮ জুনের আগে কেন এই নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হলো না? ফ্যাক্ট বা পরিস্থিতি পরিবর্তন হতেই নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।

দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে কালীঘাট তৃণমূলকে এক সাময়িক কিন্তু বিরাট স্বস্তি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

*স্পেশাল অফিসার নিয়োগ: হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে এই মামলার 'স্পেশাল অফিসার' বা বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

* টাকা তোলার ছাড়পত্র: এই স্পেশাল অফিসারের কড়া নজরদারিতেই দলের রোজকার সাধারণ খরচ এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা তোলা যাবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে এই নির্দেশ।

* কাউন্টার সিগনেচার: অ্যাকাউন্টের সই করার অধিকার যে দু'জন অনুমোদিত ব্যক্তির রয়েছে, তারা আগের মতোই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন; তবে প্রতি ক্ষেত্রে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কাউন্টার সই বা সম্মতি থাকতে হবে। এবং প্রতিদিনের খরচের হিসাবও আদালতকে জমা দিতে হবে।

হাইকোর্টের এই স্বস্তির খবর সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখ কুণাল ঘোষ। হাইকোর্টের প্রশ্নগুলোকে হাতিয়ার করে তিনি বিরোধীদের একহাত নিয়েছেন। 

সব মিলিয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক, দুই ময়দানেই আজ কার্যত ব্যাকফুটে চলে গেল দলবিরোধী অংশ। আর বুক ফুলিয়ে কামব্যাক করল মমতা পন্থী আসল তৃণমূল।

                                             - অঙ্কিতা পাল 

পরবর্তী খবর