হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে আয়োজিত মিছিলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। বুধবার দুপুরে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত তৃণমূলের ছাত্র ও যুব কর্মীদের একটি মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাস্তায় নামতে হয়। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এক তৃণমূল কর্মীকে চড় মারতেও দেখা যায় তাঁকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
আদালতের নির্দেশ মেনে বুধবার দুপুর আড়াইটায় বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিল শুরু করেছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিল কিছুদূর এগোতেই পাশে থাকা বিজেপি কর্মীরা আচমকা 'চোর' স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর জবাবে তৃণমূল কর্মীরাও পাল্টা তেড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং মারপিট শুরু হয়ে যায়।
তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির মাঝেই পরিকল্পিতভাবে অন্য একটি মিছিল ঢুকিয়ে দেয় বিজেপি। যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। সকাল থেকেই এলাকায় তাণ্ডব চালানো হয়েছে এবং মহিলা কর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে বলে শাসক শিবিরের দাবি।
এই ঘটনার খবর পেয়েই কালীঘাটের বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বালিগঞ্জের বিশৃঙ্খলা নিয়ে সরাসরি বিজেপি-কে নিশানা করে তিনি বলেন, "যারা রামের টাকা চুরি করে খায়, যারা প্রণামী বাক্স থেকে টাকা চুরি করে, তাঁরাই রামের নামে স্লোগান দিয়ে রামের অবমাননা করছে। আমি বলি, 'রামকা নাম বদনাম না করো।'"
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ, সোনা ও রুপো তছরুপের অভিযোগে দেশজুড়ে শোরগোল পড়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন চতুরতার সঙ্গে পদ্ম শিবিরকে বিঁধেছেন মমতা।
এদিনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ মিছিলে বাধা দিল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েরা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করতে গিয়েছিল। পুলিশ যখন জানে এটা হাইকোর্টের অর্ডারে হচ্ছে, তারপরেও এটা তাঁরা কী করে করতে পারে? আমাদের হ্যান্ড মাইকের পারমিশন ছিল, সেটাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।" এ রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তরপ্রদেশের চেয়েও খারাপ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা পুনরায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
শুধু তাই নয়, এদিন বালিগঞ্জের ঘটনার জেরে দলের অন্দরেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে একপর্যায়ে চরম মেজাজ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে আচমকাই এক ব্যক্তিকে কষিয়ে চড় মারেন তিনি। পরে জানা যায়, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি আদতে তৃণমূলেরই এক কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
-অঙ্কিতা পাল