ইরানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট জানালেন, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি শেষ। হরমুজ প্রণালীতে ৩টি জাহাজে হামলার জবাবে গত রাতে দক্ষিণ ইরানের প্রধান তেল কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী; পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও।
আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর, বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বড় ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি এখন শেষ এবং তিনি ইরানিদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না।
ইরানিদের মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও অসুস্থ লোক আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত রাতে ইরানের "অত্যন্ত বিপজ্জনক লোকেদের" ওপর শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়েছিল ইরানি সেনাবাহিনী।
আরও পড়ুন কলকাতায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের বড় সাফল্য, জন্মগত বিরল ত্রুটি সারিয়ে ৫১ বছর পর দৃষ্টি ফিরল ব্যক্তির
সাংবাদিকদের সামনে ইরানের সরকারের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, "ওরা মিথ্যাবাদী, ওরা প্রতারক, ওরা অসুস্থ মানসিকতার লোক। ওরা নিজেদের লোকেদের ক্ষতি করেছে। ওরা এখন পর্যন্ত ৫৪,০০০ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। আপনারা জানেন, লোকে যখন বলে যে ওরা (বিক্ষোভকারীরা) কেন ক্ষমতা দখল করেনি? ওরা ক্ষমতা দখল করতে পারে না কারণ ওরা মৃত।" তিনি আরও যোগ করেন, "গত রাতে আমরা ইরানের অত্যন্ত বিপজ্জনক লোকগুলোর ওপর খুব শক্তিশালী হামলা চালিয়েছি। ওরা অসুস্থ, ওদের মধ্যে কোনো সমস্যা আছে।"
ইরানকে 'শয়তান' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই সংঘাতের একমাত্র লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্র করা। তিনি বলেন, "আমি তাদের বলেছি যে, তোমরা যখনই আঘাত হানবে, আমরাও আঘাত করব। তারা নোংরা খেলোয়াড়, তারা শয়তান লোক। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আর আমরা একে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে যাচ্ছি।"
এবিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরানকে বড় ধরনের মূল্য চকাতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
বুধবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আচমকা হামলায় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপে বিস্ফোরণের ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি আঘাত হানা হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে। এই এলাকাটিতে ইরানের সামরিক ও নজরদারি অবকাঠামো রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একই সাথে বন্দর নগরী সিরিক এবং বান্দার আব্বাসেও জোরালো বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। উপকূলীয় এই শহরগুলোতে ইরানের নৌবাহিনীর ঘাঁটি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালায়।
রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধূলিসাৎ করতে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের প্রয়াত নেতা আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাঝেই এই হামলা চলল।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক সফরকালেই মঙ্গলবার এই হামলার অনুমোদন দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে মার্কিন হামলার জবাবে ওমান সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়েছে ইরানি বাহিনী।
গত মাসেই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (UKMTO)-র তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওমান উপকূলের কাছে একটি তেল ট্যাঙ্কারসহ তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। ওমানের নিরাপদ করিডোরের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ইরান ট্রানজিট ফি দাবি করার পর এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা দুই দেশের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটাল।
-দিশা দাস