সর্বশেষ সংবাদ
হাইকোর্টে ধাক্কা খেল বিজেপি! বুধবারই কলকাতার রাস্তায় নামছেন মমতা, তবে মানতে হবে ৩ কড়া শর্ত

হাইকোর্টে ধাক্কা খেল বিজেপি! বুধবারই কলকাতার রাস্তায় নামছেন মমতা, তবে মানতে হবে ৩ কড়া শর্ত

সব বাধা, সব বিতর্ক উড়িয়ে অবশেষে রাজপথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট সবুজ সংকেত দিতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধা কিংবা পুলিশের আপত্তি, কোনো কিছুই আটকাতে পারছে না তৃণমূল সুপ্রিমোর এই হাই-ভোল্টেজ মেগা মিছিল। আবার বিজেপির আপত্তিও ধোপে টেকেনি, আইনি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল ঘাসফুল শিবিরই।

তবে আদালতের এই অনুমতি কিন্তু একেবারেই নিঃশর্ত নয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বুধবারের এই মিছিল করতে হবে বেশ কিছু কড়া নিয়ম মেনে।

 

আরও পড়ুন বারুইপুরকাণ্ডে পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন শুভেন্দুর, ১% শিথিলতাতেও কড়া অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি

 

আদালতের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো মিছিলের রুট এবং সময়সীমা। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, এই মিছিলটি বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হয়ে হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। আর তার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র ২ ঘণ্টা। অর্থাৎ, ঘড়ির কাঁটা মেপে দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যেই শেষ করতে হবে গোটা কর্মসূচি।

দ্বিতীয় শর্তটি দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মিছিল চলাকালীন আমজনতার ভোগান্তি এড়াতে ওই রুটের রাস্তার একটা লেন বা ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল থাকে।

এর পাশাপাশি আরও একটি বড় শর্ত চাপিয়েছে আদালত, যা হলো ভিড়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই হাই-প্রোফাইল মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কোনোভাবেই ১,০০০ জনের বেশি হওয়া চলবে না। অর্থাৎ, ১,০০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেই করতে হবে এই প্রতিবাদ মিছিল।

এদিন আদালত থেকে বেরোতেই আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, "আগামিকাল শর্ত সাপেক্ষে তৃণমূলকে মিছিলের অনুমতি দিয়েছে আদালত। ছাত্র-যুবর এই প্রতিবাদ মিছিল বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত যাবে।"

তবে তৃণমূলের জন্য এই অনুমতি পাওয়া কিন্তু বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ ছিল, পুলিশ কোনোভাবেই এই কর্মসূচির অনুমতি দিচ্ছিল না। বাধ্য হয়েই জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত এবং শেষমেশ আইনি সিলমোহর ছিনিয়ে আনে কালীঘাট শিবির।

তবে এই মিছিল ঠিক কীসের প্রতিবাদে, তা নিয়ে এখনও একটা ধোঁয়াশা জিইয়ে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদেই ফের পথে নামছেন মমতা। আবার অনেকের মতে, এই মিছিলের আড়ালেই আসলে শুরু হয়ে যাচ্ছে ২১শে জুলাইয়ের 'শহিদ দিবস'-এর মেগা প্রস্তুতি।

এর আগে সোমবারও কলকাতার রাস্তায় চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কালীঘাটের বাড়ি থেকে মোমবাতি হাতে বের হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ আটকে দাঁড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তৈরি হয় তুমুল উত্তেজনা। কিন্তু সমস্ত ব্যারিকেড আর বাধা কার্যত উড়িয়ে দিয়ে অনুগামীদের নিয়ে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মূল রাস্তায় চলে আসেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

ভোট-পরবর্তী ধাক্কা আর হকার উচ্ছেদ বিতর্ক সামলানোর পর, বুধবারের এই মিছিল মমতার জন্য নিজের রাজনৈতিক শক্তি দেখানোর একটা মস্ত বড় পরীক্ষা। আদালতের কড়া নজরদারি আর রাজপথের এই টানটান উত্তেজনার মাঝে শেষ পর্যন্ত কী হয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।

                                                                                                                                       -দিশা দাস

পরবর্তী খবর