সর্বশেষ সংবাদ
সাংস্কৃতিক জগতে নতুন সমীকরণ: রুদ্রনীলের নেতৃত্বে গায়কদের নতুন মঞ্চ, সরাসরি বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে

সাংস্কৃতিক জগতে নতুন সমীকরণ: রুদ্রনীলের নেতৃত্বে গায়কদের নতুন মঞ্চ, সরাসরি বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে

টলিউড স্টুডিয়োপাড়ার চেনা বৃত্তে এবার এক নতুন সমীকরণ। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ‘ফতোয়া সংস্কৃতি’ এবং ‘দাদাগিরি’র অবসান ঘটাতে তৈরি হলো এক নতুন অরাজনৈতিক মঞ্চ, ‘পারফরম্যান্স অফ বেঙ্গল’। 

বুধবার, ১৭ জুন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ ঘটল মূলত সংগীতশিল্পীদের নিয়ে তৈরি এই সংগঠনের। প্রথম বৈঠকেই টলিউডের প্রথম সারির গায়কদের উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি তথা বিনোদন মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

সংগঠন সূত্রে খবর, এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য হলো, কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সাধারণ শিল্পী থেকে শুরু করে প্রথম সারির সংগীত ব্যক্তিত্বদের অভাব-অভিযোগ ও দাবিদাওয়া সরাসরি পৌঁছে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে।

বুধবারের এই প্রথম এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলা রক ও আধুনিক গানের চেনা মুখ শিলাজিৎ মজুমদার, অনিন্দ্য বসু (শহর), রাঘব চট্টোপাধ্যায় এবং সিধু (ক্যাকটাস)। দীর্ঘদিন পর এই শিল্পীদের একসঙ্গে কোনো মঞ্চে, তাও আবার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক আবহে দেখা যাওয়া যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, "গায়ক-গায়িকা ও মিউজিসিয়ানদের পক্ষ থেকে এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মঞ্চ। তাঁরা সুস্থ পরিবেশের পক্ষে কথা বলছেন, যা একেবারেই যথাযথ। এই মঞ্চে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের যোগ্যতায় বহু বছর ধরে মানুষের মন জয় করেছেন।"

এর পাশাপাশি, রুদ্রনীল নাম না করে বিগত শাসকদলের দিকে ইঙ্গিত করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, "গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে একটা ফতোয়ার মাধ্যমে ঠিক করা হতো কে শিল্পী আর কে শিল্পী নন। এতদিন ধরে যে সিস্টেমে কাজ চালানো হয়েছে, সকলের যৌথ সিদ্ধান্তে আজ তার চূড়ান্ত পরাজয় ঘটল।"

একই সুরে সুর মিলিয়েছেন নবগঠিত ‘পারফরম্যান্স অফ বেঙ্গল’-এর মুখপাত্র প্রবীর দাস। হেডলাইনস্ কলকাতাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কড়া ভাষায় তোপ দাগেন। প্রবীরবাবুর স্পষ্ট দাবি, বিগত সরকারের আমলে শিল্পীদের ওপর পেশাগত অত্যাচার চালানো হতো। পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে কাজের সুযোগ ঠিক হতো। সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে টলিউডকে মুক্ত করাই এখন তাঁদের প্রধান কাজ।

নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রুদ্রনীল বর্তমান প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, "বর্তমান সরকার নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সজাগ। আগামী দিনে নারী শিল্পীদের সম্মান যাতে সর্বত্র বজায় থাকে, সেই চেষ্টাই করা হবে। কোনো সমস্যা হলে আমরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব।"

সর্বোপরি, টলিউডের অন্দরে এই নতুন ফোরামের জন্ম, ভবিষ্যতে বিনোদন জগতের ক্ষমতার অলিন্দে কোনো বড়সড় বদল আনে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

                                                                               - অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর