সর্বশেষ সংবাদ
ইসকন ও মায়াপুরের মহারাজদের হাত ধরে পাণ্ডবেশ্বরে ‘সনাতনী প্রত্যাবর্তন’, নিজের শিকড়ে ফিরলেন ১০০ জন!

ইসকন ও মায়াপুরের মহারাজদের হাত ধরে পাণ্ডবেশ্বরে ‘সনাতনী প্রত্যাবর্তন’, নিজের শিকড়ে ফিরলেন ১০০ জন!

 সনাতন ধর্মের শাশ্বত আদর্শ, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও গৌরবময় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এক ঐতিহাসিক কর্মসূচির সাক্ষী থাকল পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর। হিন্দু জাগরণ, মধ্য বঙ্গ (আসানসোল জেলা)-এর উদ্যোগে পাণ্ডবেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী পঞ্চপাণ্ডব মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ ‘সনাতনী প্রত্যাবর্তন’ কর্মসূচি। ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক জাগরণের বার্তা দিতে এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছিল একটি তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভার।

 

আরও পড়ুন এক বৈঠকেই সব জল্পনা শেষ! নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘরে সৌরভের এন্ট্রি কেন এত তাৎপর্যপূর্ণ?

 

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সামাজিক কারণে অতীতে যাঁরা সনাতন ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, তেমন প্রায় ১০০ জন মানুষ এই বিশেষ দিনে আবারও নিজের শিকড়ে ফিরে আসেন। সম্পূর্ণ বৈদিক রীতি মেনে, মন্ত্রোচ্চারণ এবং গঙ্গাজল গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের সনাতনী জীবনধারায় ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একই সাথে তাঁদের পুনরায় হিন্দু দেব-দেবীর পূজা-অ্যানুষ্ঠানিক এবং সনাতনী সংস্কৃতির চর্চায় নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পাণ্ডবেশ্বরে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সাধুসন্ত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রিষড়া আশ্রমের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রান্ত সভাপতি শ্রীমৎ নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ, শ্রীধাম মায়াপুরের শ্রী সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংঘের যুগ্ম সম্পাদক শ্রীমৎ জগদাতিহা দাস মহারাজ এবং বীরভূমের গীতাভবনের অধ্যক্ষ স্বামী সত্যানন্দ মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু জাগরণ मंच দক্ষিণ বঙ্গের শ্রী সঞ্জয় শাস্ত্রী মহারাজ, হিন্দু জাগরণ (মধ্য বঙ্গ)-এর প্রান্ত সংযোজক শ্রী অমিত সরকার এবং ইসকন গারুই (আসানসোল)-এর দয়া চাঁদ প্রভু।

আলোচনা সভায় উপস্থিত সাধুসন্ত ও বিশিষ্ট বক্তারা সনাতন ধর্মের মানবকল্যাণমূলক দর্শন, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে এই চেতনাকে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তাঁরা বিশেষ জোর দেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে কোনো রকম ভেদাভেদ ভুলে নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠান শেষে হিন্দু জাগরণ, মধ্য বঙ্গের কার্যকরী সদস্য শ্রী তাপস সিংহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, সমাজে সনাতনী চেতনার বিকাশ, সাংস্কৃতিক ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে। এই ধরণের উদ্যোগ সামাজিক বন্ধনকে আরও মজবুত করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

সবমিলিয়ে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক চেতনা ও সামাজিক সংহতির এক অনন্য মেলবন্ধনে পাণ্ডবেশ্বরের এই উদ্যোগ উপস্থিত সকলের মধ্যে গভীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার সঞ্চার করেছে। আয়োজকদের মতে, সমাজের বৃহত্তর পরিসরে সনাতন ধর্মের মূল মূল্যবোধ ও শাশ্বত সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। আগামী দিনে এই ধরনের কর্মসূচি গ্রামীণ স্তরেও সনাতনী চেতনাকে আরও ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে।

                                                                                                                                                                              -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর